দর্শন (Philosophy) হলো মানুষের চিন্তা, জ্ঞান ও জীবনের অর্থ অনুসন্ধানের একটি প্রাচীন শাস্ত্র। গ্রিক শব্দ Philo অর্থ ভালোবাসা এবং Sophia অর্থ জ্ঞান—এই দুই শব্দ থেকে দর্শনের উৎপত্তি, যার অর্থ “জ্ঞানকে ভালোবাসা”। দর্শন মানুষের অস্তিত্ব, সত্য, নৈতিকতা, জ্ঞান এবং বাস্তবতা সম্পর্কে গভীর প্রশ্ন তোলে।
দর্শনের মূল লক্ষ্য হলো যুক্তি ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে সত্যকে অনুধাবন করা। এটি মানুষকে কেবল কী বিশ্বাস করতে হবে তা শেখায় না, বরং কেন বিশ্বাস করতে হবে সেই প্রশ্ন তুলতে শেখায়। সক্রেটিস, প্লেটো, অ্যারিস্টটল থেকে শুরু করে ইমাম গাজ্জালি, কান্ট ও রুশো—সব দার্শনিকই মানব সমাজ ও চিন্তার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।
দর্শনের প্রধান শাখাগুলোর মধ্যে রয়েছে অধিবিদ্যা (Metaphysics), জ্ঞানতত্ত্ব (Epistemology), নীতিশাস্ত্র (Ethics) এবং যুক্তিবিদ্যা (Logic)। নীতিশাস্ত্র আমাদের ভালো-মন্দের ধারণা দেয়, যুক্তিবিদ্যা সঠিকভাবে চিন্তা করতে শেখায়, আর জ্ঞানতত্ত্ব জানায় আমরা কীভাবে জ্ঞান অর্জন করি।
দর্শন মানুষকে সচেতন, যুক্তিবাদী ও মানবিক করে তোলে। দৈনন্দিন জীবনে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া, নৈতিক মূল্যবোধ গঠন এবং সমাজকে বোঝার ক্ষেত্রে দর্শনের ভূমিকা অপরিসীম। তাই দর্শন শুধু একটি বিষয় নয়, এটি একটি চিন্তার পথ।