কেনি ম্যাকলিনের মধ্যমাঠ থেকে করা সেই দুর্দান্ত গোল এখনো দেখছেন? দেখলেও দোষ নেই। তবে সেটি যদি শোনেন আলাস্টেয়ার লামন্টের উত্তাল রেডিও ধারাভাষ্যের সঙ্গে, পেছনে বাজে সেলিন ডিয়নের টাইটানিক, তা হলে তো আরো চমৎকার! উল্লাসের জোয়ার থেমে গেলে এবং আগের বিশ্বকাপগুলোর এনথেম বারবার চালাতে গিয়ে অ্যালেক্সাও যখন ক্লান্ত হয়ে পড়ে, তখনই মাথায় আসে এই যোগ্যতা অর্জনের পর স্কটল্যান্ডের সামনে কী অপেক্ষা করছে। সমর্থকদের জন্য তো এটা একেবারেই নতুন অভিজ্ঞতা। বহু দশক পর স্কটল্যান্ডের পুরুষ দল বিশ্বকাপে।
উত্তর আমেরিকা যাত্রা শুরু, কোথায়, কিভাবে? গত ইউরোতে জার্মানি যাওয়া ছিল ‘উইকএন্ড ট্যুর’-এর মতো। কয়েক ঘণ্টার ফ্লাইট, গাড়ি বা ট্রেনে চলে যাওয়া সম্ভব। এবার সে রকম নয়—এটা সত্যিকারের মহাযাত্রা। বিশাল মহাদেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা তিন অঞ্চলে হবে গ্রুপ পর্ব। লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে ভ্যানকুভারের দূরত্ব ১,২০০ মাইল। কানসাস সিটি থেকে মেক্সিকো সিটি ১,৭০০ মাইল। মায়ামি থেকে বস্টন ১,৫০০ মাইল। গ্রুপ ড্রয়ের আগ পর্যন্ত কোন অঞ্চলে তাদের দল খেলবে, তা জানার জন্য স্কটিশ সমর্থকদের অপেক্ষা করতে হবে। এর মধ্যেই একটি স্কটিশ ট্রাভেল এজেন্সি তিন রাতের নিউ ইয়র্ক ভ্রমণ থেকে শুরু করে ১১ রাতের ক্যালিফোর্নিয়া প্যাকেজ পর্যন্ত বিভিন্ন অফার বাজারে ছাড়ছে—যার মূল্য মাথাপিছু ২,৬৫৯ পাউন্ড থেকে ৩,৯৯৯ পাউন্ড পর্যন্ত।
টুর্নামেন্ট শুরুর এক দিন আগে উড়ে গিয়ে গ্রুপ পর্ব শেষে ফিরে আসার সময়ের এডিনবরা–ফিলাডেলফিয়া ফ্লাইট এখনই ৭০০ পাউন্ডের কিছু ওপরে বিক্রি হচ্ছে। এদিকে ম্যাচ টিকিটের দাম চোখ কপালে তোলার মতো। স্কটিশ দল তুরস্কে অনুশীলন শিবিরে যাওয়ারও আগেই ফিফার প্রথম দফা টিকিট লটারির জানালা খুলে বন্ধও হয়ে গেছে। এখন তাই সমর্থকদের অপেক্ষা ৫ ডিসেম্বরের ড্রয়ের পর নতুন টিকিট বরাদ্দের। প্রত্যেক অংশগ্রহণকারী দেশের মতো স্কটল্যান্ডও পাবে নিজেদের ‘ট্রাভেল ক্লাব’ সদস্যদের জন্য নির্দিষ্টসংখ্যক টিকিট। তবে সদস্য হলেই নিশ্চয়তা নেই। দামও এমন যে বুক কেঁপে উঠবে। টিকিট পরের কথা, আগে তো পৌঁছাতে হবে! যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে লাগবে ইএসটিএ। যার জন্য অনলাইনে আবেদন করা যায় এবং ৯০ দিনের জন্য বৈধ থাকবে। যাদের যুক্তরাজ্যের পাসপোর্ট নেই, তাদের প্রয়োজন হতে পারে ভিসা, যার জন্য লন্ডনের মার্কিন দূতাবাসে সাক্ষাৎকার দিতে হয়। মেক্সিকোতে ঢুকতে ভিসার দরকার নেই। তবে কানাডায় বিমানযোগে গেলে লাগবে ইটিএ।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো—তিন আয়োজক দেশ প্রথম পটে। অন্য ৯টি দল বিশ্বের সেরাদের সেরা। তাই প্রথম পট থেকে আয়োজকদেরই পাওয়া বরং স্বস্তির হবে স্কটল্যান্ডের জন্য। দ্বিতীয় পটে সব শক্তিশালী দল। ইউরোপ থেকে ক্রোয়েশিয়া, সুইজারল্যান্ড ও অস্ট্রিয়া—তিন দলই বিপজ্জনক। অন্যদিকে মরক্কো, কলম্বিয়া, উরুগুয়ে, জাপান, সেনেগাল, ইরান, দক্ষিণ কোরিয়া, ইকুয়েডর ও অস্ট্রেলিয়া—কারো মুখোমুখি হলেও কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে। চতুর্থ পটের অনেক দলই এখনো নির্ধারিত নয়। তারা অপেক্ষা করছে প্লে-অফের।