বগুড়া জেলার দুপচাঁচিয়া উপজেলায় মাটি-ভরাটের কারণে একের পর এক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ব্রিজ- কালভার্ট দ্বারা পানি নিষ্কাশনের পথ। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই বসতি এলাকা এবং ফসলের মাটজুড়ে সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। ব্রিজ- কালভার্ট মাটি ভরাট করে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করার প্রবণতা রুখতে না পারলে এক- দুই বছরের মধ্যে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী।
তাছাড়াও উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার বিরূপ প্রভাব পড়ছে কৃষি অর্থনীতিতে। দুপচাঁচিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বাধাহীন পানি প্রবাহের জন্য সড়কে এবং রাস্তায় ব্রিজ নির্মাণ এবং কালভার্ট স্থাপন করা হয়। বর্ষা মৌসুমে প্রবল বৃষ্টিপাত হলে সড়ক ও রাস্তায় বাধাগ্রস্ত পানি ব্রিজ এবং কালভার্ট দিয়ে অতি সহজেই ইরামতি খাল ও নাগর নদীতে প্রবাহিত হত। ফলে বসতবাড়ি এবং আবাদী জমি থাকত জলাবদ্ধমুক্ত।
কিন্তু দিন দিন অপরকল্পিত ভাবে বাড়িঘর নির্মাণ করার ফলে পানি প্রবাহের পথগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া মাটি-ভরাট করে ব্রিজ- কালভার্টের মুখ বন্ধ করে দিচ্ছেন একশ্রেণীর প্রভাবশালী মহল। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা বলছেন, সামান্য বৃষ্টিতেই ফসলি মাঠ জলাবদ্ধতা হয়। ফলে ক্ষেতে উৎপাদিত ফসল পচে নষ্ট হয়। এবং বেশি জলাবদ্ধতার কারণে জমি রোপন করা অসম্ভব হয়ে পরে। তাছাড়াও জলাবদ্ধতার কারণে কৃষি শ্রমিকদের অধিক হারে মজুরি প্রদান করতে হয়।
এদিকে দুপচাঁচিয়া উপজেলার তালোড়া ইউনিয়নের কইল গ্রামের কৃষকরা এই প্রতিবেদককে জানান, আলতাফ নগর (ভায়া) কইল (ভায়া) কুন্দগ্রাম টু তালোড়া রোডে কইল টু দোগাছি রাস্তায় পানি নিষ্কাশনের জন্য দুটি ব্রিজ থাকলেও বেশ কিছুদিন গততে কইল বড়পুকুরিয়া নামক স্থানের কালভার্টটি মাটি দিয়ে ভরাট করার ফলে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা একেবারেই বন্ধ হয়ে যায়। এতে শত শত বিঘা আবাদি জমি জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
এই গ্রামের কৃষকরা আরো বলেন, জলাবদ্ধতার কারণে সময় মত আবাদি জমি রোপণ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে আমরা বেশ দুশ্চিন্তায় পরেছি। গ্রামীণ কৃষি অর্থনীতি চাঙ্গা রাখতে বন্ধ ব্রিজ- কালভার্ট সনাক্ত করে ফসলি মাঠ জলাবদ্ধতা মুক্ত রাখার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন উপজেলার কৃষকরা।