লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে সরকারি সেবায় ঘুষ–হয়রানি বন্ধসহ নানা উন্নয়ন প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন লক্ষ্মীপুর–১ (রামগঞ্জ) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সদস্যপদপ্রার্থী নাজমুল হাসান পাটোয়ারী।
বৃহস্পতিবার বিকেলে সোনাপুর চৌরাস্তায় তাঁর সমর্থনে আয়োজিত ‘মার্চ ফর দাঁড়িপাল্লা’ গণমিছিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় নাজমুল পাটোয়ারী বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ কার্যে সাধারণ মানুষ নানা হয়রানির শিকার হন। জন্ম নিবন্ধনসহ মৌলিক সেবা পেতে দৌড়ঝাঁপ করতে হয়। ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর অব্যবস্থাপনা, চিকিৎসক সংকট ও অপর্যাপ্ত সেবার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। নির্বাচিত হলে এসব সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
কৃষি সেক্টরের অনিয়মের কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর দাবি, সরকার কৃষকদের জন্য প্রতিবছর যে প্রণোদনা বরাদ্দ দেয়, তা প্রকৃত চাষিদের হাতে পৌঁছায় না। খাল দখলের কারণে শুকনো মৌসুমে সেচ সুবিধায় বিঘ্ন ঘটে।
তিনি বলেন, বরাদ্দকৃত কৃষি প্রণোদনা সঠিকভাবে বণ্টন ও খাল খননের মাধ্যমে পানির সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।
পারিবারিক বিরোধ, সামাজিক অপরাধ ও তুচ্ছ কারণে মামলা–ঝামেলা বন্ধে উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন নাজমুল পাটোয়ারী। থানায় দালালচক্র ও ঘুষ–হয়রানি বন্ধের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, প্রতিহিংসার রাজনীতি নয়—বিজয়ী হলে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা বা দমন–পীড়ন করা হবে না। শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের ওপর চাঁদাবাজি বন্ধ করা হবে বলেও তিনি জানান।
জনগণের কাছে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ‘ওপেন হাউজ’ চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ ও সেবার মান নিয়ে জনগণ ও গণমাধ্যম সরাসরি প্রশ্ন করতে পারবেন।
রামগঞ্জে বড় ধরনের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের অভাবের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এখনো উপজেলাটিতে গ্যাসসংযোগ নেই, জেলাটিও রেলসংযোগহীন। নার্সিং ইনস্টিটিউট, মেডিকেল কলেজ, টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট না থাকা এবং সরকারি হাসপাতালের বেহাল অবস্থা পরিবর্তনে কাজ করার কথাও বলেন তিনি।
নিজেকে রামগঞ্জের ‘স্থানীয় সন্তান’ দাবি করে তিনি বলেন, তাঁর ঢাকায় কোনো বাড়ি বা ব্যক্তিগত গাড়ি নেই এবং নির্বাচিত হলেও তিনি রামগঞ্জেই থাকবেন।
অনুষ্ঠানে জেলা ও উপজেলা জামায়াতের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকদের দাবি, মিছিলে দশ হাজারের বেশি মানুষ অংশ নেন।