গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলেও সংবিধানে না থাকার যুক্তিতে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেননি বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। যদিও আজ মঙ্গলবার সংসদ সদস্য ও সংবিধান সংস্কার পরিষদ উভয় শপথ নেওয়ার কথা ছিল তাঁদের। সে অনুযায়ী, সরকারের প্রস্তুতিও নেওয়া ছিল। এ পরিস্থিতিতে শপথ না নেওয়ার কথা বলেছিল বিরোধী জামায়াত ও এনসিপি জোট।
এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে ১১ দলীয় জোট বৈঠকে বসে। পরে তাঁরা শপথ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। প্রথমে শপথ নেন জামায়াতের নির্বাচিত ৬৮ জন সংসদ সদস্য। তাঁরা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পর সংবিধান সংশোধন পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ নেন। শপথ পড়ান প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। জামায়াতের সংসদ সদস্যদের পর দুটি শপথ নেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ-২০২৫ অনুসারে, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী হলে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের দায়িত্ব পালন করবেন। সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেবেন।
আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় সংসদে শপথ নিয়েছেন বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। কিন্তু তাঁরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিষয়টি সংবিধান নেই। তাঁরা পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন না। এ কারণে সংসদ সচিবালয়ের প্রস্তুতি থাকার পরেও বিএনপি নির্বাচিত সংসদ সদদ্যদের সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ অনুষ্ঠিত হয়নি।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিএনপির সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ার আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধানে এ বিষয় যুক্ত না থাকায় বিএনপির সংসদ সদস্যরা আজ সংবিধান সংস্কার পরিষদ সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন না। তিনি বলেন, ‘আমরা গণপরিষদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হইনি।’
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘গণভোটের রায় অনুযায়ী, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হলে সেটা সংবিধানে আগে ধারণ করতে হবে। কে শপথ নেওয়াবেন সেটার বিধান করতে হবে। এই রকম ফরম (সংসদ সদস্যদের শপথ ফরম) সংবিধানে নেই। এই সাদা ফরম তৃতীয় তফসিলে আছে। এই রকম ফরম তৃতীয় তফসিলে আসবে। সেগুলো জাতীয় সংসদে সাংবিধানিকভাবে গৃহীত হওয়ার পরে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথ নেওয়ার বিধান করা যাবে বিধায় আমরা এখন সাংবিধানিকভাবে এই পর্যন্ত এসেছি। আমরা সংবিধান মেনে এ পর্যন্ত চলছি, এবং আশা করি সামনের দিনেও চলব। মাননীয় চেয়ারম্যানের নির্দেশে, উনার উপস্থিতিতে আপনাদের এই দলীয় সিদ্ধান্ত জানালাম।’