ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে ময়মনসিংহে ভাবগম্ভীর পরিবেশে পালিত হয়েছে বিভিন্ন শ্রদ্ধাঞ্জলি ও স্মরণ কর্মসূচি। আজ মঙ্গলবার(০৫ আগস্ট ২০২৫) সকাল থেকে দিঘারকান্দা বাইপাস মোড় এলাকায় শুরু হয় দিনব্যাপী কর্মসূচি, যেখানে অংশ নেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং ছাত্র-তরুণ সমাজ।
শহীদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির সূচনা হয়। উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ বাংলাদেশ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
পরে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পটভূমিতে বেজে উঠছিল দেশের গান, যা স্মরণ করিয়ে দেয় ২০২৪ সালের রক্তস্নাত জুলাই বিপ্লবের গৌরবময় ইতিহাস।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, “এই দিনটি কোনো সাধারণ দিবস নয়—এটি স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, অধিকার এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতীক। এ দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, জনগণের শক্তির কাছে কোনো স্বৈরশাসন, দুর্নীতি বা অন্যায় টিকে থাকতে পারে না।”
তারা আরও বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান আমাদের একটি ইতিহাস তৈরি করে দিয়েছে, যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে দিতে হবে। গণআন্দোলনের চেতনা যেন কেবল স্মৃতির পাতায় সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং সমাজ পরিবর্তনের অনুপ্রেরণা হয়ে কাজ করুক, সেই প্রত্যাশা করি।”
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা এই দিবসটি জাতীয়ভাবে পালন ও স্কুল-কলেজের পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান। তাছাড়া, শহীদদের স্মরণে একটি স্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের আহ্বানও জানানো হয়।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ঘটে যাওয়া গণঅভ্যুত্থান দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় সৃষ্টি করে। সাধারণ জনগণ, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের সাহসী ভূমিকা দেশের শাসন ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের সূচনা করে। সেই আন্দোলনে শহীদ হওয়া অসংখ্য সাহসী মানুষ আজও জাতির হৃদয়ে অমর হয়ে আছেন।
দিবসটি উপলক্ষে শহরের বিভিন্ন স্থানে পোস্টার, ব্যানার, আলোচনাসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়।
দিনের কর্মসূচি শেষ হয় জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাতের মধ্য দিয়ে।