খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ার সেন্টার থেকে বের হয়ে শুরু হয় একটি জ্বলন্ত মশাল মিছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণকালে “১‑২‑৩‑৪, ডিপ্লোমা‑তুই কোটা ছাড়”, “ইঞ্জিনিয়ার বানান কর, চাকরির দাবি পরে কর”, “কোটা না মেধা, মেধা মেধা”—এই ধরনের স্লোগান দিয়ে ক্যাম্পাসকে মুখরিত করেন।
মিছিল শেষে ছাত্ররা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারে অবস্থান করে গণমাধ্যমের সামনে তাদের তিন দফা দাবি তুলে ধরেন:
১. ৯ম গ্রেড (সহকারী প্রকৌশলী বা সমমান পাওয়াদের নিয়োগে সমতা:
বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারদের শুধুমাত্র ন্যূনতম যোগ্যতা বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি থাকা সাপেক্ষে সমান নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়া হোক। কোটা/সমমান পদ তৈরি করে পদোন্নতি দেওয়া ঠিক নয়।
২. ১০ম গ্রেড (উপ-সহকারী প্রকৌশলী বা সমমান পদে ডিপ্লোমা কোটা বাতিল:
ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য বরাদ্দ ১০০% কোটা বাতিল করতে হবে। যদিও নূন্যতম যোগ্যতা ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং, তবুও বিএসসি বা এমএসসি ডিগ্রিধারীরাও আবেদন করতে সক্ষম হবেন।
৩. “ইঞ্জিনিয়ার” পদবীর ব্যবহার সংক্রান্ত দাবি:
শুধুমাত্র বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রিধারী প্রকৌশলী এই পদবী ব্যবহার করতে পারবেন। অন্য কেউ এই পদবীর প্রয়োগ করলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করেন।
রুয়েটের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক, অধ্যাপক রবিউল ইসলাম সরকার বলেন, “ডিপ্লোমা সিন্ডিকেট ২০১৩ সালে সরকারকে বাধ্য করে কোটা পদ্ধতি চালু করেছে, যা প্রকৌশল শিক্ষা ও ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে। এ কারণে যোগ্য ও মেধাবীরা তাদের সুযোগ পাচ্ছে না; দেশও দেরিতে উন্নয়নের পথে এগোচ্ছে। আমি সকল প্রকৌশল প্রধানদের এ বিষয়ে সরব হওয়ার আহ্বান জানাই।”
কুয়েটের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক, অধ্যাপক ইকরামুল হক বলেন, “কোটার বিরুদ্ধে ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানে অনেকেই প্রাণ দিয়েছেন, তবুও অন্যায়ভাবে কোটা বহাল রয়েছে। আমরা ছয় মাস ধরে ন্যায়সঙ্গত আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি, কিন্তু এখনও আমাদের দাবি উপেক্ষিত। আমরা শান্তিপূর্ণ, তবে আমাদেরকে অশান্ত করা ঠিক নয়—আমাদের মেধার যথার্থ মূল্যায়ন করতে হবে।”
উল্লেখ্য, গত ছয় মাস ধরে বিএসসি ও ডিপ্লোমা প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের মধ্যে কোটা‑ভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে চলমান বিবাদ রয়েছে। সরকারের পদক্ষেপহীনতায়, শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরাজ করছে দুঃখ ও হতাশা, যা এই মশাল মিছিলের মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। তারা তাদের দাবিগুলি না মানা পর্যন্ত সংহতভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।