ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের সফল অভিযানে বহুল আলোচিত চাচার হোটেলের মালিক খন্দকার আবু মুছা মোহাম্মদ আদম-এর বসতবাড়িতে সংঘটিত দস্যূতার ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে। অভিযানে ঘটনায় জড়িত মূল আসামিকে গ্রেফতারসহ লুণ্ঠিত নগদ ২,৮৭,০০০/- টাকা উদ্ধার করা হয়।
গত ১৮/০৬/২০২৫ খ্রিঃ তারিখ রাত আনুমানিক ১২.১৫ ঘটিকায়, খন্দকার আবু মুছা মোহাম্মদ আদম (৫১) নিজ বাসার দরজার তালা খোলার সময় অজ্ঞাতনামা দুইজন ব্যক্তি পেছন দিক থেকে ঝাপটে ধরে তাকে ঘরের ভিতরে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে তার হাত-পা, মুখ ও চোখ বেঁধে একটি কক্ষে আটকে রেখে মারধর করে এবং শব্দ করতে নিষেধ করে। একপর্যায়ে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। জ্ঞান ফিরে পেয়ে তিনি তার স্ত্রী ও চাচার হোটেলের ম্যানেজার মুস্তাফিজুর রহমান দুদু মিয়াকে বিষয়টি অবহিত করেন। পরে দেখা যায়, খাটের নিচে রাখা ট্রাঙ্ক ভেঙে সেখানে সংরক্ষিত নগদ ২৩,০০,০০০/- টাকা ও প্রায় দের ভরি স্বর্ণালংকার (মূল্য আনুমানিক ২,৫০,০০০/- টাকা) লুট করে নিয়ে গেছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কর্তৃক অজ্ঞাতনামা দুইজনের বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করলে কোতোয়ালী মডেল থানায় এফআইআর নং-৬৩, তারিখ-২০/০৬/২০২৫ খ্রিঃ, ধারা-৩৯৪ পেনাল কোডে মামলা রুজু হয়।
মাননীয় পুলিশ সুপার, ময়মনসিংহ মহোদয়ের সার্বিক তত্ত্বাবধান এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মহোদয়ের নির্দেশনায় ডিবি পুলিশের একটি চৌকস দল তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৫/০১/২০২৬ খ্রিঃ তারিখ রাত ১৯.১৫ ঘটিকায় কোতোয়ালী মডেল থানাধীন কাঁচিঝুলি এলাকার ২৫/খ, গোলাপজান রোড থেকে আসামি স্বপ্না (৪৩), পিতা-আঃ রহিম, স্বামী-ইমরান সরকার-কে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে তার বসতঘর তল্লাশি করে তার হেফাজত থেকে বাদীর লুণ্ঠিত ২,৮৭,০০০/- টাকা উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামিকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হলে সে নিজের দোষ স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।
ডিবি পুলিশের এই সফল অভিযানে জনমনে স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় হয়েছে।