দর্শন (Philosophy) মানব সভ্যতার ইতিহাসে একটি গভীর ও বিস্তৃত চিন্তাধারা যা, মানুষের অস্তিত্ব, জ্ঞান, সত্য ও নৈতিকতার প্রশ্নকে কেন্দ্র করে বিকশিত হয়েছে। দর্শনের বিস্তার কোনো নির্দিষ্ট সময় বা অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং এটি প্রাচীন যুগ থেকে আধুনিক যুগ পর্যন্ত বিভিন্ন সভ্যতা ও সংস্কৃতির মাধ্যমে ক্রমাগত প্রসার লাভ করেছে।
দর্শনের সূচনা মূলত প্রাচীন গ্রিসে হলেও এর শিকড় আরও গভীরে প্রাচ্য সভ্যতায় বিস্তৃত। ভারতে বেদ, উপনিষদ, বৌদ্ধ ও জৈন দর্শনের মাধ্যমে আত্মা, কর্ম ও মোক্ষের ধারণা বিকশিত হয়। চীনে কনফুসিয়াস ও লাওৎসে সমাজনীতি ও নৈতিকতার উপর দর্শনের বিস্তার ঘটান। অন্যদিকে গ্রিসে সক্রেটিস, প্লেটো ও অ্যারিস্টটল যুক্তি, রাজনীতি ও জ্ঞানতত্ত্বকে সুসংগঠিত করেন।
মধ্যযুগে দর্শনের বিস্তার ধর্মের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হয়। ইসলামি বিশ্বে আল-ফারাবি, ইবনে সিনা ও ইবনে রুশদ দর্শন ও বিজ্ঞানের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করেন। ইউরোপে এই সময়ে ধর্মতাত্ত্বিক দর্শনের প্রভাব লক্ষ করা যায়। রেনেসাঁ ও আধুনিক যুগে দর্শন নতুন দৃষ্টিভঙ্গি লাভ করে। ডেকার্ট যুক্তিবাদ, লক অভিজ্ঞতাবাদ এবং কান্ট সমালোচনামূলক দর্শনের বিকাশ ঘটান।
আধুনিক ও উত্তর-আধুনিক যুগে দর্শনের বিস্তার আরও বহুমাত্রিক হয়েছে। অস্তিত্ববাদ, বিশ্লেষণাত্মক দর্শন, মার্ক্সবাদ ও নারীবাদী দর্শন সমাজ, রাজনীতি ও ব্যক্তিমানুষের জীবনে নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। বর্তমানে দর্শন বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, নৈতিকতা ও মানবাধিকারের সঙ্গে যুক্ত হয়ে আরও কার্যকর ও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।
সব মিলিয়ে দর্শনের বিস্তার মানব চিন্তাকে প্রশ্নমুখী, যুক্তিনিষ্ঠ ও মানবিক করে তুলেছে।