নব্বই দশকের নিভৃতচারী কবি মৃধা আলাউদ্দিনের জন্মদিন আজ (২ ফেব্রুয়ারি)। এ উপলক্ষে গত শুক্রবার কবির কাব্যকৃতি ও সাহিত্যকর্মের ওপর বিশেষ সাহিত্যসভার আয়োজন করে কেরানীগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী সাহিত্য সংগঠন।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন কবি-চিন্তক নয়ন আহমেদ। আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন—কবি খালিদ সাইফ, কবি খৈয়াম আজাদ, কবি পলিয়ার ওয়াহিদ, কবি-ছড়াশিল্পী রেদওয়ানুল হক প্রমুখ।
মৃধা আলাউদ্দিন ছন্দ সচেতন নাগরিক এবং একই সঙ্গে তিনি গ্রামিণ কবি। তার কবিতায় উঠে এসেছে দেশ ও সমাজের কুসংস্কার, নীতিহীন-বিপ্রতীব সময়ের ছবি, নোংরা রাজনীতি। একই সঙ্গে নিপুণ কারিগর বাবুই পাখির মতো মৃধা তার কবিতায় প্রেম, দ্রোহ ও ভালোবাসার গান গেয়েছেন।
জন্মদিন অনুষ্ঠানে কবি মৃধা আলাউদ্দিন স্মরণে বক্তারা বলেন, কবি মৃধা একই সঙ্গে কথাশিল্পী ও প্রাবন্ধিক। তিনি নব্বই দশকের নিভৃতচারী কবিদের অন্যতম। দেশের জাতীয় দৈনিক, লিটলম্যাগ ও ওয়েব ম্যাগাজিনগুলোয় নিয়মিত তার লেখা প্রকাশিত হচ্ছে।
মৃধা একজন ছন্দ সচেতন নাগরিক-বৈশ্বিক কবি। তার কবিতায় উঠে এসেছে সমাজের কুসংস্কার, নীতিহীন-বিপ্রতীব সময়ের ছবি, নোংরা রাজনীতি এবং একই সঙ্গে নিপুণ কারিগরের মতো মৃধা তার কবিতায় প্রেম, দ্রোহ ও ভালোবাসার গান গেয়েছেন। সমাজ বিনির্মাণের গাথা কবিকে আলাদা বৈশিষ্ট্য দান করেছে। কবির দোঁহাগুচ্ছ পাঠকের মনোযোগ কাড়তে সক্ষম হয়েছে। সমালোচনা সাহিত্যে কবি তার নিজস্ব জায়গা তৈরি করে নিয়েছেন।
প্রধান আলোচক খালিদ সাইফ বলেন, কবি মৃধা আলাউদ্দিনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘রৌদ্দুরে যায় মন’। তার অন্য কাব্যগ্রন্থগুলো মধ্যে আছে— সামনের শীতে মানুষ রৌদ্র হবে, জঙধরা পিনালকোড (গল্পগ্রন্থ), চড়ুইয়ের চিড়িপ চিড়িপ শব্দ (কিশোর কবিতা), শুঁড়িখানার নরম দেহ (দোঁহা কাব্যগ্রন্থ), অল্পকিছু বিষ প্রয়োজন (দোঁহা কাব্যগ্রন্থ), আল মাহমুদ ও অন্যান্য সন্দর্ভ প্রভৃতি।
কবির কবিতা এক ভিন্ন সুর ও জগতে নিয়ে যায়। এক নিঃশ্বাসে পড়া যায় কবির কবিতা। …মৃধার কবিতা আমাদের সংগ্রহকে সমৃদ্ধ করবে বলেই আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস।
আলোচনা অনুষ্ঠান, কেক কাটা শেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সবশেষে কাব্যসন্ধ্যায় নৈশভোজের আয়োজন ছিলো। সাদা ভাত, গরুর গোশত ও রুই মাছের মুড়ো দিয়ে রাতের খাবার খেয়ে সবাই তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলেছেন। এমন তৃপ্তিদায়ক খাবারের জন্য সবার কাছে প্রশংসায় ভাসছেন কবি মৃধা আলাউদ্দিন।
কবি নিজেও দর্শক-শ্রোতাদের তার গুচ্ছ কবিতা পাঠ করে শোনান। কবির লেখা গান পরিবেশন করেন নূরে হাফসা ও জলিল শেখ।