এক যুগের বেশি সময়ের অপেক্ষার অবসান ঘটাল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। ২০১২ সালের পর প্রথমবারের মতো আইপিএলে নিজেদের প্রথম ম্যাচে জয়ের দেখা পেল টুর্নামেন্টের সবচেয়ে সফল দলটি। রোহিত শর্মা ও রায়ান রিকেল্টনের তাণ্ডবে রেকর্ড গড়েই জিতল মুম্বাই। ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে রোববার রাতের ম্যাচে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে মুম্বাই।
আগে ব্যাট করে ২২০ রানের বড় পুঁজি পায় কলকাতা। কিন্তু দুই ওপেনারের ঝড়ে ৫ বল বাকি থাকতে ম্যাচ জিতে নিয়েছে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা। আইপিএল ইতিহাসে এটিই মুম্বাইয়ের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়। এর আগে ২০২১ সালের টুর্নামেন্টে চেন্নাই সুপার কিংসের বিপক্ষে ২১৯ রান তাড়া করে জিতেছিল দলটি। আর এই জয়ে ১৩ বছরের অপেক্ষা ঘুচিয়ে আসরের প্রথম ম্যাচ জিতল তারা। বিশাল লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে পাওয়ার প্লেতেই কলকাতাকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেন রোহিত শর্মা ও রায়ান রিকেল্টন।
দুজনের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে প্রথম ৬ ওভারে ৮০ রান করে ফেলে মুম্বাই। পরে একই ছন্দে এগিয়ে উদ্বোধনী জুটিতে মাত্র ৭১ বলে ১৪৮ রান যোগ করেন তারা। প্রায় ৯ মাস পর টি-টোয়েন্টি খেলতে নেমে ৩ চার ও ৫ ছক্কায় মাত্র ২৩ বলে আইপিএল ক্যারিয়ারের ৫০তম ফিফটি করেন রোহিত। আইপিএলে এটিই তার দ্রুততম ফিফটি। অন্য প্রান্তে ঝড় তোলা রিকেল্টন ২ চারের সঙ্গে ৬টি ছক্কা মেরে ২৪ বলে করেন ফিফটি। দ্বাদশ ওভারে বৈভব অরোরার বলে ছক্কা মারতে গিয়ে আউট হন রোহিত। ৬টি করে চার-ছক্কায় ৩৮ বলে তিনি করেন ৭৮ রান। এ নিয়ে কলকাতার বিপক্ষে তার রান হলো ১ হাজার ১৬১। আইপিএলে এত দিন নির্দিষ্ট দলের বিপক্ষে সর্বোচ্চ রান ছিল বিরাট কোহলির, পাঞ্জাবের বিপক্ষে ১ হাজার ১৫৯। এরপর সূর্যকুমার যাদব বেশি কিছু করতে পারেননি। ৩ চারে ৮ বলে ১৬ রান করে ফিরে যান অভিজ্ঞ ব্যাটার।
অনুকূল রায়ের দুর্দান্ত ফিল্ডিংয়ে রান আউট হন রিকেল্টন। ফেরার আগে ৪ চারের সঙ্গে ৮ ছক্কায় ৪৩ বলে ৮১ রান করেন প্রোটিয়া উইকেটকিপার-ব্যাটার। পরে জয় পেতে তেমন বেগ পায়নি মুম্বাই। ৪ চারে ১৪ বলে ২০ রান করে আউট হন তিলক বর্মা। আর ১১ বলে ১৮ রান করে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন অধিনায়ক হার্দিক পান্ডিয়া। এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকে ঝড় তোলেন কলকাতার দুই ওপেনার ফিন অ্যালেন ও অজিঙ্কা রাহানে। দুজন মিলে মাত্র ৩২ বলে গড়েন ৬৯ রানের জুটি। ৬ চার ও ২ ছক্কায় মাত্র ১৭ বলে ৩৭ রান করে ফেরেন অ্যালেন। তিন নম্বরে নেমে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি ক্যামেরন গ্রিন। ১০ বলে ১৮ রান করে ফিরলে ভাঙে ২১ বলে ৪০ রানের জুটি। অন্য প্রান্তে তাণ্ডব চালিয়ে যান রাহানে। ৩ চারের সঙ্গে ৪টি ছক্কা মেরে ২৭ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন কলকাতা অধিনায়ক। পঞ্চাশের পর অবশ্য তেমন কিছু করতে পারেননি রাহানে। সব মিলিয়ে ৩ চার ও ৫ ছক্কায় ৪০ বলে ৬৭ রান করে আউট হন অভিজ্ঞ ব্যাটার। এরপর ঝড় তোলেন আঙ্কৃশ রঘুবংশী ও রিঙ্কু সিং। দুজনের জুটিতে আসে ৩০ বলে ৬০ রান। মাত্র ২৯ বলে ৫১ রানের ইনিংস খেলে আউট হন রঘুবংশী। ২১ বলে ৩৩ রান করে অপরাজিত থাকেন রিঙ্কু। মুম্বাইয়ের পক্ষে ৩৯ রানে ৩ উইকেট নেন শার্দুল ঠাকুর।