আমার সঙ্গে আশাজির দুইবার দেখা হয়েছে। প্রথমবার দেখা হয়েছে ঢাকায়। ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে গান করতে এসেছিলেন। ব্যাকস্টেজে দেখা করতে যাওয়ার পর আমাকে বললেন, ‘তোমার নাম আমি শুনেছি। তোমার একটা গান শুনেছি—জন্ম আমার ধন্য হলো। কী সুন্দর তুমি গেয়েছ।’ তাঁর কাছ থেকে এমন প্রশংসা শুনে অনেক লজ্জা পাচ্ছিলাম।
এই কথা তাঁকে বলার পর বললেন, ‘লজ্জার কিছু নেই। এটা তোমার প্রাপ্য।’ আরেকবার তাঁর সঙ্গে দেখা হয়েছিল বোম্বেতে ‘অন্যায় অবিচার’ সিনেমার গান রেকর্ডিংয়ের সময়। শক্তি সামন্ত পরিচালিত যৌথ প্রযোজনার এই সিনেমার গানগুলো লিখেছেন গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার এবং সুর-সংগীত করেছেন আর ডি বর্মন। গানের রিহার্সালের সময় স্টুডিওতে এসেছিলেন আশাজি। আমি গান তুলছিলাম, তা দেখছিলেন তিনি। সেদিন আমার কণ্ঠ ও গায়কির এত প্রশংসা করছিলেন যে আমি খুব লজ্জা পাচ্ছিলাম। আর ডি বর্মনকে বললেন, ‘তুমি তো এই গানের জন্য একজন পারফেক্ট শিল্পীকে বেছে নিয়েছ।’
আশাজির ব্যবহার, কথাবার্তা, নম্রতা-ভদ্রতা দেখে বোঝার উপায় ছিল না উনি এত বড় মাপের একজন শিল্পী। উনার সঙ্গে যত কথা বলেছি, ততই অবাক হয়েছি। শিল্পী হিসেবে তো বটেই, একজন মানুষ হিসেবেও তাঁর মাঝে যে গুণাবলি ছিল, তা সবার জন্য শিক্ষণীয় বিষয়। তিনি যেমন মহান শিল্পী, তেমনি একজন মহান মানুষ। উনাকে নিয়ে মূল্যায়ন করার কোনো যোগ্যতাই আমার নেই। আশাজির কোনো তুলনা নেই। আশাজির মৃত্যুর সংবাদ শুনে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। কয়েক মিনিট কথাই বলতে পারছিলাম না। সকালে খবর দেখলাম উনি আইসিইউতে আছেন। ভেবেছিলাম সুস্থ হয়ে উঠবেন। কয়েক ঘণ্টা পর যখন ওনার মৃত্যুর সংবাদ শুনলাম, তখন নির্বাক হয়ে গেলাম। চোখ দিয়ে ঝরঝর করে পানি পড়ছিল। এত কষ্ট পেয়েছি, বলে বোঝাতে পারব না।