নওগাঁর মান্দায় সৎমায়ের নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে এক স্কুলছাত্রী আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মৃতদেহের পাশ থেকে একটি চিরকুটও উদ্ধার করা হয়, যেখানে আত্মহত্যার জন্য নিজের বাবা আকবর হোসেন ও সৎমা রোজিনা বেগমকে দায়ী করেছে ভুক্তভোগী।
শনিবার (২৬ জুলাই) দুপুরে হোমিও চিকিৎসক আব্দুস সালামের প্রসাদপুর বাজারের ভাড়া বাসা থেকে ওই ছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পর সৎমা রোজিনা বেগম পালিয়ে যান।
নিহত স্কুলছাত্রী আফরিন আক্তার রিভা (১৪) নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার কাঁটাখালি গ্রামের মো. আকবর হোসেনের মেয়ে। সে মান্দা থানা আদর্শ বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।
রিভার ছোট ভাই আল রিয়াদ জানায়, শুক্রবার সৎমা রোজিনা বেগম বোনকে মারধর করে। এরপর সে কিছুই খায়নি। রাতে তাকে মুরগির গ্রিল কিনে খাওয়াই। এরপর সে আলাদা ঘরে ঘুমায়। সকালে কোচিং থেকে ফিরে দেখি দরজা বন্ধ। প্রতিবেশীদের সহায়তায় দরজা ভেঙে দেখি, ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলে আছে বোন।
রিভার জন্মদাতা মা রুমালি আক্তার বলেন, আমার স্বামী দ্বিতীয় বিবাহ করে দুই সপ্তাহ আগে রোজিনাকে বাসায় তোলে। এরপর থেকে সংসারে অশান্তি শুরু হয়। আমাকে বাসা থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। মেয়েকে নিতে চাইলেও স্বামী বাধা দেন। আজ আমাকে মেয়ের লাশ দেখতে হলো। আমি স্বামী ও তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে দায়ী করছি।
মান্দা থানার ওসি মনসুর রহমান বলেন, চিরকুটসহ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।