1. admin@banglarrang.com : admin :
  2. info.banglarrang@gmail.com : banglar rang : banglar rang
  3. demo1.banglarrang@gmail.com : demo1 demo : demo1 demo
  4. owdcfyxb@znemail.com : emanuelsolander :
  5. joshuawilliams47430dvn@budgetthailandtravel.com : fannyigv718 :
  6. novikov-9iouh@myrambler.ru : lynda78370040 :
  • শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০৬:৪০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
চট্টগ্রামে স্বরলিপি সাংস্কৃতিক অঙ্গনের যুগপূর্তি উৎসব ২০২৬ অনুষ্ঠিত জেলা পুলিশ, ময়ননসিংহ এর আয়োজনে পুলিশ সুপার ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট-২০২৬ এর ফাইনাল ম্যাচ ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত পাঁচ পুলিশ সদস্যকে কুপিয়ে হাতকড়াসহ আসামি ছিনতাই, ১৫৯ জনের নামে মামলা এমএসই’২১ ব্যাচের শিক্ষার্থী রেজওয়ানুল হকের মৃত্যুতে কুয়েটে শোক, বন্ধ একাডেমিক কার্যক্রম বগুড়ায় এ মৌসুমে সবজির পর এবার আলু রফতানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ রিয়াল কোচ জাবি আলোনসো বরখাস্ত আর কখনো যাতে ভোট ডাকাতি না হয়, সে ব্যবস্থা করতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা সব রেকর্ড ভেঙে সোনার ভরি ২ লাখ ৩২ হাজার চবি শিক্ষার্থী অর্পিতা শীলের চোখে সুন্দরবনের ঢাংমারী : জীবনসংগ্রাম ও আতঙ্কে জর্জরিত জেলেপল্লী মাল্টিমিডিয়া ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

ঋণ দিয়ে ২১৩ কোটি টাকা ঘুষ নেন সাইফুজ্জামান

এম শামীম হোসেন স্টাফ রিপোর্টারঃ / ৫২
রবিবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

প্রথমে টার্গেট ব্যবসায়ীদের লোকমারফত বাসায় ডেকে নিতেন। এরপর তাদের কাছে দাবি করতেন মোটা অঙ্কের ঘুষ। টাকা দিতে না চাইলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে তুলে নিয়ে গুম করার হুমকি দিতেন। বলতেন—দেশে ব্যবসা করতে হলে তাকে ঘুষ দিতেই হবে। না দিলে ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ করে দেওয়ারও হুমকি দিতেন। তবে এই টাকারও ব্যবস্থা করে দিতেন নিজেই। ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) ঋণের আবেদন করাতেন সেই ব্যবসায়ীকে দিয়ে। এরপর ব্যাংকের চেয়ারম্যান স্ত্রীকে দিয়ে সেই ঋণ মঞ্জুর করিয়ে চেকের মাধ্যমে ঘুষের টাকা নিতেন নিজের পিএসকে পাঠিয়ে।

এভাবে পাঁচজন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ২১৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন পতিত শেখ হাসিনার সরকারের সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে মিলেছে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য। এরই মধ্যে এসব অভিযোগে মামলার সব আয়োজন শেষ করেছে দুদক। অনুমোদনও মিলেছে কমিশন থেকে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আজ রোববার মামলা দায়ের হতে পারে। দুদকের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা কালবেলাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। দুদক বলছে, এমন ঘটনা আরও অনেক থাকতে পারে। মামলা দায়েরের পর পূর্ণাঙ্গ তদন্তে বিষয়টি বেরিয়ে আসবে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৬ সালের ১১ মে থেকে ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ইউসিবি পিএলসির পরিচালক ও চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের স্ত্রী রুকমীলা জামান।

রুকমীলা জামান চেয়ারম্যান থাকলেও তিনি ব্যাংকে যেতেন না। তার পরিবর্তে সাইফুজ্জামান নিজেই চেয়ারম্যানের কক্ষে বসে অফিস করতেন। এমনকি ব্যাংকের সভাতেই রুকমীলা জামান থাকতেন না। তার জায়গায় সভার সভাপতিত্ব করতেন সাইফুজ্জামান চৌধুরী। সভায় রেজ্যুলেশন লেখা হলে সাইফুজ্জামানের গুলশানের বাসা থেকে তার স্ত্রীর স্বাক্ষর আনতেন পিয়ন মুজিবুর রহমান। এভাবেই নামমাত্র স্ত্রীকে চেয়ারম্যান বানিয়ে সব কার্য সম্পাদন করতেন সাইফুজ্জামান নিজে।

থার্মেক্স নেট ইয়ার্নের কাছ থেকে নেন ৫২ কোটি টাকা ঘুষ: সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ভূমিমন্ত্রী থাকাকালে ২০২১ সালের ২৮ অক্টোবর ইউসিবি পিএলসির গুলশানের প্রধান কার্যালয়ে ডেকে আনেন থার্মেক্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আব্দুল কাদের মোল্লাকে। সেখানে গেলে আব্দুল কাদের মোল্লার কাছ থেকে সাইফুজ্জামান ৫০ কোটি টাকা ঘুষ দাবি করেন। দাবিকৃত টাকা না দিলে গুম করে ফেলা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেন। এরপর আব্দুল কাদের মোল্লা বাধ্য হয়ে ২০২১ সালের ৩ থেকে ৮ নভেম্বরের মধ্যে ছয়টি চেকের মাধ্যমে তাকে ২৭ কোটি টাকা দেন। ইউসিবির সাবেক চেয়ারম্যানের পিএস কাদের মোল্লার অফিস থেকে সেই চেকগুলো আনেন।

এরপর ২০২২ সালের ৬ জুলাই সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ আব্দুল কাদের মোল্লাকে ফের তার গুলশানের বাসায় ডেকে ৫০ কোটি টাকা দাবি করেন। এরপর কাদের মোল্লা পাঁচটি চেকের মাধ্যমে সাইফুজ্জামানকে ২৫ কোটি টাকা দেন। এ ঘটনায় সম্প্রতি ঢাকার সিএমএম আদালতে আব্দুল কাদের মোল্লা বাদী হয়ে সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ও ইউসিবি পিএলসির চেয়ারম্যানের পিএস রঞ্জন কুমার দাসের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছেন। ওই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গত ২৮ জুলাই মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৬-এ ঘটনার সত্যতা রয়েছে উল্লেখ করে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন।

এইচ এম শিপ ব্রেকিং ইন্ডাস্ট্রিজের থেকে ৫৫ কোটি টাকা ঘুষ নেন: ইউসিবি পিএলসির আগ্রাবাদ শাখার গ্রাহক এইচ এম শিপ ব্রেকিং ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের কাছ থেকে ৫৫ কোটি টাকা ঘুষ নেওয়ার প্রমাণ মিলেছে। ঘুষ নেওয়ার আগে সাইফুজ্জামান তার স্ত্রীর ক্ষমতার অপব্যবহার করে এইচ এম শিপ ব্রেকিং ইন্ডাস্ট্রিজের হিসাব নম্বরে ২০১৯ সালের ১৮ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ৩৫ কোটি টাকা ঋণ অনুমোদন ও বিতরণ করান। এ ছাড়া একই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দ্বিতীয় ধাপে আরও ২০ কোটি টাকা ঋণ অনুমোদন ও বিতরণ করা হয়। এরপর বিভিন্ন চেকের মাধ্যমে সাইফুজ্জামানের মালিকানাধীন আরামিট থাই অ্যালুমিনিয়ামের হিসাবে স্থানান্তর করা হয়।

এর মধ্যে ২০১৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি ৫ কোটি, ২৪ ফেব্রুয়ারি ৫ কোটি, ২৫ ফেব্রুয়ারি ৫ কোটি, ২৬ ফেব্রুয়ারি ৫ কোটি, ২৭ ফেব্রুয়ারি ৫ কোটি করে দুই চেকে ১০ কোটি এবং ২৮ ফেব্রুয়ারি ৫ কোটি টাকাসহ মোট ৫৫ কোটি টাকা নেওয়ার প্রমাণ মিলেছে নথিপত্রে।

ওয়াল মার্ট থেকে ৫ কোটি টাকা ঘুষ: ওয়াল মার্টের কাছ থেকে সাইফুজ্জামান চৌধুরীর কর্মচারী মো. আব্দুল আজিজের নামে ইউসিবির সদরঘাট শাখায় খোলা ইম্পেরিয়াল ট্রেডিং নামীয় প্রতিষ্ঠানের হিসাবে ৫ কোটি টাকা জমা করা হয়। তবে এর আগে ২০২১ সালের ২৪ জানুয়ারি ইউসিবির জুবিলী শাখার গ্রাহক ওয়াল মার্ট লিমিটেডের এমডি সৈয়দ সিরাজুল ইসলাম ব্যাংকটি থেকে ২০ কোটি টাকা ঋণের আবেদন করেন। নথিপত্র বলছে, পরবর্তী সময়ে একই দিনে অনুষ্ঠিত ব্যাংকের ৪৫৬তম বোর্ড সভায় ঋণ অনুমোদন করা হয়। এর দুদিন পর ২৬ ফেব্রুয়ারি ওয়াল মার্টের হিসাবে ঋণের টাকা জমা করা হয়।

সাইফ পাওয়ারটেক ও ই-ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কাছ থেকে ৪১ কোটি ৭৫ লাখ ঘুষ: ইউসিবি পিএলসির মহাখালী শাখার গ্রাহক সাইফ পাওয়ারটেকের কাছ থেকে ৪১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার প্রমাণ মিলেছে। ঘুষ নেওয়ার আগে ২০২০ সালের ৩১ আগস্ট থেকে ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ওই প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ৩৫ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়। ঋণ বিতরণের পর সেই অর্থ সাইফুজ্জামানের মালিকানাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হিসাবে চেকের মাধ্যমে জমা করা হয়। এর মধ্যে ২০২০ সালের ৩১ আগস্ট ১ কোটি ৭৫ লাখ, একই দিন আরও একটি চেকে ১ কোটি ৭৫ লাখ, আরেক চেকে ১ কোটি ৫০ লাখ; ১ সেপ্টেম্বর ১ কোটি ৭০ লাখ, আরেক চেকে ১ কোটি ৭০ লাখ, আরেক চেকে ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা নেন। ২ সেপ্টেম্বর ১ কোটি ৪০ লাখ, আরেক চেকে ১ কোটি, আরেক চেকে ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা নেন। এভাবে ২৯টি কিস্তিতে চেক, নগদ ও বিভিন্ন ভাউচারে মোট ৪১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ঘুষ হিসেবে নেন সাইফুজ্জামান জাবেদ।

বেস্ট সার্ভিস লিমিটেড থেকে নেন ৬০ কোটি টাকা ঘুষ: ইউসিবি পিএলসির ফরেন এক্সচেঞ্জ শাখার গ্রাহক বেস্ট সার্ভিসের কাছ থেকে ৬০ কোটি টাকা ঘুষ নেওয়ার প্রমাণ মিলেছে নথিপত্রে। ঘুষ নেওয়ার আগে বেস্ট সার্ভিসের হিসাবে ২০২২ সালের ১৬ থেকে ২০ জুনের মধ্যে ৬০ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়। এরপর সেই টাকা সাইফুজ্জামানের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন হিসাবে পাঠানো হয়। এর মধ্যে ১৬ জুন সাইফুজ্জামানের কর্মচারীর মাধ্যমে বেস্ট সার্ভিসের হিসাব থেকে ৫ কোটি টাকা নগদে উত্তোলন করা হয়। এ ছাড়া ২১ জুন নগদে ইউসিবির নিকুঞ্জ শাখা থেকে ২ কোটি করে দুটি ও ১ কোটি করে একটি চেকে মোট ৫ কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়। বাকি ৫০ কোটি টাকা ২২ জুন ২০২২ থেকে ৬ জুলাই ২০২২-এর মধ্যে ২১টি ট্রান্সজেকশনে সাইফুজ্জামানের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন হিসাবে পাঠানো হয়।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের বাংলাদেশি, সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের চারটি নম্বরে হোয়াটসঅ্যাপে ফোন দিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। তার যুক্তরাষ্ট্রের নম্বরে ফোন ঢুকলেও তিনি তা ধরেননি।

#এম_এস


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
https://slotbet.online/