গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া সরকারি আদর্শ কলেজ শাখা ও কোটালীপাড়া পৌর শাখা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটি ঘিরে তীব্র বিরোধ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। দুই কমিটিতেই বিতর্কিত ব্যক্তিদের নেতৃত্বে আসার অভিযোগ এনে নেতাকর্মীরা তা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।
কলেজ শাখা ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটিতে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন কোটালীপাড়া পৌর ছাত্রলীগের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বহিষ্কৃত সদস্য। সিনিয়র সহ-সভাপতি হয়েছেন সাবেক উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাইনুল ইসলাম রিমোর ঘনিষ্ঠ কর্মী। সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি পূর্বে কোটালীপাড়া এস এল আর কলেজ ছাত্র সংসদের জি এস পদপ্রার্থী ছিলেন। এসব কারণে কলেজ শাখার নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এটি প্রকৃত ছাত্রদলীয় ত্যাগী কর্মীদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা।”
অন্যদিকে, কোটালীপাড়া পৌর শাখার নবগঠিত কমিটি নিয়েও সমালোচনা উঠেছে। অভিযোগ করা হয়েছে, আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব উভয়েই অতীতে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত ছিলেন এবং ২০১৭ সালে তৎকালীন ছাত্রলীগ নেতা গোকুল ঘোষের সঙ্গে ফেনসিডিলসহ গ্রেফতার হয়েছিলেন। আরও অভিযোগ, আহ্বায়ক তপু দাড়িয়া বিবাহিত ও অছাত্র, আর সদস্য সচিব বাঁধন নিজামী ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় তিনি বিদেশে অবস্থান করে আওয়ামী লীগের মেয়র জাহাঙ্গীরের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং সেই ছবি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করেন।
দুই শাখারই নেতাকর্মীরা দাবি জানিয়েছেন, বিতর্কিত নেতৃত্ব দিয়ে কমিটি গঠন করলে তৃণমূলের মনোবল ভেঙে যায়। তারা অনতিবিলম্বে উভয় কমিটি বাতিল করে প্রকৃত ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের নিয়ে নতুন কমিটি গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন।