জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ গঠনের দাবিতে শিক্ষার্থীরা গণসমাবেশ করেছে। রবিবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী এ সমাবেশে অংশ নেন। সমাবেশ চলাকালে তারা স্লোগান দেন এবং ক্যাম্পাসজুড়ে দেয়াল লিখন ও গ্রাফিতির মাধ্যমে দাবির জানান দেন। বক্তারা অভিযোগ করেন, প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে আশ্বাস দিলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি, যা শিক্ষার্থীদের হতাশ ও ক্ষুব্ধ করছে।
২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর দুই দশকেও নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ হয়নি। গত বছরের আন্দোলনের পর শিক্ষার্থীরা গঠনতন্ত্র প্রণয়ন ও নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি তুলেছিলেন। তবে এক বছর পেরিয়ে গেলেও প্রশাসন এখনও কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “আমরা ছাত্র সংসদ গঠনে নীতিগতভাবে একমত। তবে ইউজিসি ও মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া এটি সম্ভব নয়। এরই মধ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে খসড়া নীতিমালা তৈরি করার চেষ্টা চলছে।”
ছাত্র উপদেষ্টা ড. আশরাফুল আলম জানান, “শিক্ষার্থীদের দাবি যৌক্তিক। প্রশাসনও ইতিবাচক। তবে সুস্পষ্ট নীতিমালা ছাড়া নির্বাচন দেওয়া সম্ভব নয়।”
প্রক্টর ড. মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, “আমরাও চাই দ্রুত ছাত্র সংসদ গঠিত হোক। তবে ইউজিসির অনুমোদন ও সিন্ডিকেটের সম্মতি প্রয়োজন।”
ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান বলেন, “ছাত্র সংসদ নিয়ে নির্দিষ্ট নীতিমালা তৈরির জন্য বিশেষ কমিটি কাজ করছে। প্রতিবেদন হাতে পেলেই রোডম্যাপ ঘোষণা করা হবে।”
শিক্ষার্থীদের মতে, দীর্ঘদিনের এ দাবি বাস্তবায়িত হলে শিক্ষাঙ্গনে স্বচ্ছতা ও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা পাবে। বিভিন্ন সংগঠন ও শিক্ষার্থীরা সমাবেশে বক্তব্য রাখেন। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইমরান হোসেন প্রধান বলেন, “দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি আধুনিক ও কার্যকর ছাত্র সংসদ গঠন আমাদের অঙ্গীকার।”
ছাত্রশিবির সভাপতি সাদ কবির বলেন, “এক বছর পার হলেও রোডম্যাপ ঘোষণা হয়নি। আমরা দ্রুত পদক্ষেপ চাই।” আইন ও বিচার বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী জেনাস ভৌমিক মনে করেন, “ছাত্র সংসদ না থাকায় শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক অরাজকতার শিকার হচ্ছে।”
ফোকলোর বিভাগের শিক্ষার্থী ঐশ্বর্য সরকার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “দ্রুত রোডম্যাপ ঘোষণা না হলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে, প্রয়োজনে অনশনেও নামব।”