আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে ধানের শীষ প্রতীকে চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছেন দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ।
রবিবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের মনোনীত প্রার্থীদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন। এসময় ফরিদপুর-৩ আসনে চৌধুরী নায়াব ইউসুফের নাম ঘোষণা করা হয়।
একসময়ের বিএনপির দুর্গ হিসেবে পরিচিত ফরিদপুর-৩ আসনটি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যেই দলটি এবার ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক পরিবারের এই তরুণ নেতৃত্বের ওপর আস্থা রেখেছে।
চৌধুরী নায়াব ইউসুফ বর্তমানে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ফরিদপুর বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বে আছেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি দলের রাজপথের আন্দোলন, সাংগঠনিক পুনর্গঠন ও তৃণমূল পর্যায়ে কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন।
দলের প্রতি তার স্বচ্ছ ভাবমূর্তি, নিবেদন এবং অবিচল আনুগত্যই তার মনোনয়নের মূল কারণ বলে মনে করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। তারা আশা করছেন, তার নেতৃত্বে ফরিদপুর-৩ আসনে বিএনপি আবারও শক্ত অবস্থান ফিরে পাবে।
নায়াব ইউসুফ ফরিদপুরের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান। তার বাবা, বিএনপির বর্ষীয়ান নেতা ও সাবেক ভাইস-চেয়ারম্যান মরহুম চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ ফরিদপুর-৩ আসন থেকে ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী এবং পরে খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রীর দায়িত্বও সফলভাবে পালন করেন।
তাঁর দাদা, মরহুম চৌধুরী ইউসুফ আলী (মোহন মিয়া) ছিলেন যুক্তফ্রন্ট সরকারের প্রাদেশিক মন্ত্রী ও ফরিদপুর অঞ্চলের একজন কিংবদন্তি সমাজসেবক। প্রায় দুই শতাব্দী ধরে এই পরিবারটি ফরিদপুরের রাজনীতি ও জনকল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।
স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদল নেতাকর্মীরা বলছেন, নায়াব ইউসুফের মনোনয়ন দলীয় ঐক্য, সংগঠনের শক্তি এবং পরিবারের জনপ্রিয় ঐতিহ্যকে একসূত্রে গাঁথবে। তারা বিশ্বাস করেন, বাবার রাজনৈতিক জনপ্রিয়তা ও নায়াব ইউসুফের সাংগঠনিক দক্ষতার সমন্বয়ে ফরিদপুর-৩ আসনটি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে।