নওগাঁর মান্দায় কালিকাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আশরাফুল ইসলাম বাবু তাঁর এলাকায় কর্মরত মান্দা থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) রবিউল ইসলাম-এর বিরুদ্ধে মাদক কারবারীদের সঙ্গে যোগসাজশ, মামলার প্রভাব বিস্তার, গ্রেপ্তার বাণিজ্য’ ও অর্থ আত্মসাৎ-এর মতো গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। একই সঙ্গে চেয়ারম্যান ও তাঁর পরিবারকে প্রকাশ্যে অশালীন গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ করেছেন তিনি।
গত শনিবার (১১ অক্টোবর) সকাল ১০টায় কালিকাপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম বাবু লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ প্রকাশ করেন।
চেয়ারম্যান বাবু তাঁর লিখিত বক্তব্যে বলেন, তিনি ইউনিয়নের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে এলেও এএসআই রবিউল ইসলাম স্থানীয় গ্রাম পুলিশ ও কয়েকজন মাদক কারবারীর সহযোগিতায় এলাকায় মাদকের প্রলয় সৃষ্টি করেছেন।
তাঁর অভিযোগ, এএসআই রবিউল মামলা প্রভাবিত করা ও গ্রেপ্তার বাণিজ্য, টাকার বিনিময়ে মামলাকে প্রভাবিত করছেন এবং নিরীহ মানুষকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে গ্রেপ্তার বাণিজ্য এর মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করছেন। এসব অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় এএসআই রবিউল ইসলাম তাঁকে জনসম্মুখে অশ্লীল ভাষায় গালাগালি ও অপমান করেন। এমনকি তাঁর
পরিবারকেও দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। চেয়ারম্যান বাবু এই ঘটনাকে জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদার ওপর আঘাত বলে উল্লেখ করেছেন।
চেয়ারম্যান সুনির্দিষ্ট ঘটনার উল্লেখ করে বলেন, এলাকার কয়েকজনের নামে মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলা দিয়ে টাকা দাবি করা হয়। মো. ইমরান নামের এক নিরীহ যুবক, যিনি একটি মামলার বাদী ছিলেন, তাকেই এএসআই রবিউল আসামি সাজিয়ে মিথ্যা মামলায় কোর্টে চালান দেন। পুকুর কাটা বা অন্যান্য কাজের বিষয়েও এএসআই রবিউল অর্থ নেন। মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেও অর্থ গ্রহণের প্রমাণ তাঁর কাছে রয়েছে বলে চেয়ারম্যান দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে এএসআই রবিউলের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত হয়রানির অভিযোগ আনেন আরও দুই ভুক্তভোগী।
চকনারায়ণ গ্রামের কৃষক বিশন মোল্লা অভিযোগ করে বলেন, জমি সংক্রান্ত একটি মামলায় আদালতের রায়ে তিনি জয়ী হওয়ার পরও এএসআই রবিউল তাঁর বাড়িতে এসে ১০ হাজার টাকা দাবি করেন। গরিব হওয়ায় তিনি অনেক অনুরোধের পর তাকে ২ হাজার টাকা দেন। কিন্তু বাকি টাকা না দেওয়ায় এএসআই রবিউল তাকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে আইনগতভাবে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন।
অন্যদিকে চককশবা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মান্নান জানান, তাদের গ্রামে একটি পারিবারিক দ্বন্দ্ব মেটাতে গ্রামবাসী ও পরে চেয়ারম্যানের শরণাপন্ন হয়েছিলেন। কিন্তু এএসআই রবিউল ইসলাম বাদীকে ফোন করে হুমকি দেন যে, মিটমাট হলে তার সঙ্গে হতে হবে এবং প্রকাশ্যে বলেন, “চেয়ারম্যান কে আর গ্রামের লোক কে? যা সালিশ প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করার সামিল।
সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে চেয়ারম্যান মো. আশরাফুল ইসলাম বাবু বলেন, এলাকার আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে এএসআই রবিউল ইসলামকে অবিলম্বে কালিকাপুর থেকে অপসারণ করতে হবে এবং তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
তিনি আরও যোগ করেন, ভবিষ্যতে যেন কোনো পুলিশ সদস্য অন্যায়ভাবে কোনো জনপ্রতিনিধিকে অপমান করার সাহস না পায়, প্রশাসন সেই নজির স্থাপন করুক।