নওগাঁর মান্দায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে এসে এক দম্পতি লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। চিকিৎসকের অবহেলা ও হাসপাতালের কয়েকজন কর্মচারীর দুর্ব্যবহারে এই দম্পতি আহত হন বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
ঘটনার একটি ভিডিও ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, যা জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
শনিবার (২ আগস্ট) ভুক্তভোগী দম্পতি উপজেলার ফতেপুর দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক তাজিবুল হক ও প্রসাদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নাজনীন নাহার এ ঘটনায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কাছে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।
এর আগে শুক্রবার (১ আগস্ট) বিকেলে মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেে জরুরি বিভাগে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, মো. তাজিবুল হক তার অসুস্থ স্ত্রীকে নিয়ে জরুরি বিভাগে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. রিফাত বিনতে জান্নাত লিয়া তখন একজন ওষুধ কোম্পানির রি-প্রেজেন্টেটিভের সঙ্গে কথোপকথনে ব্যস্ত ছিলেন। প্রাথমিকভাবে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর চিকিৎসক তাজিবুল হকের সমস্যা শুনে তাকে ওষুধ দেন। তবে তার স্ত্রীর জন্য কোনো চিকিৎসা না দিয়ে তাকে পরদিন আসতে বলা হয়। এ সময় তাজিবুল হক নিজের রক্তচাপ মাপার অনুরোধ করলে চিকিৎসক তাকে কক্ষের বাইরে অপেক্ষা করতে বলেন। এতে উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে তাজিবুল ঘটনাস্থলে থাকা চিকিৎসক ও রি-প্রেজেন্টেটিভের ছবি তুলতে গেলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, চিকিৎসকের নির্দেশে অ্যাম্বুলেন্স চালক ইমন, ওয়ার্ডবয় নাজমুল, সোহেল এবং স্বেচ্ছাসেবক বাপ্পি মিলে তাজিবুল হককে জোর করে আটকে রাখার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তিনি বাইরে বেরিয়ে আসলে তাকে টেনে-হিঁচড়ে ফেলে দেওয়া হয়, এতে তিনি ও তার স্ত্রী মাটিতে পড়ে গিয়ে আহত হন এবং দেহে আঘাত পান।
ভুক্তভোগী তাজিবুল হক বলেন, চিকিৎসা চাইতে গিয়েছিলাম, অপমান আর লাঞ্ছনা নিয়ে ফিরেছি। আমার স্ত্রী অসুস্থ, তবুও চিকিৎসক গুরুত্ব না দিয়ে প্রতিনিধি নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। এ ঘটনায় তিনি সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযুক্ত ওয়ার্ড বয় মো. নাজমুল বলেন, আমি পাশের কক্ষে কথা বলছিলাম। হঠাৎ গণ্ডগোলের শব্দ শুনে বাইরে আসি। এসে দেখি ডা. রিফাত বিনতে জান্নাত লিয়া ম্যাডাম কান্নাকাটি করছেন। এমন পরিস্থিতিতে ম্যাডাম আমাকে বলেন, ওনাদের ধরো এবং ইমারজেন্সি রুমের ভেতরে নিয়ে যাও। এরপর আমি ওনাদের ভেতরে নেওয়ার চেষ্টা করি। সে সময় একপর্যায়ে ধস্তাধস্তির পরিস্থিতি তৈরি হয়।
এ বিষয়ে ডা. রিফাত বিনতে জান্নাত লিয়া জানান, আমি স্বীকার করছি, তখন রুমে একজন রি-প্রেজেন্টেটিভ ছিলেন। তবে এমন নয় যে, শুধুমাত্র তার জন্য আমি রোগীদের বাইরে পাঠিয়ে দিয়েছি এটা একেবারেই সত্য নয়। তারা চিকিৎসা নেওয়ার পরপরই আরেকজন রোগী কক্ষে ঢুকেছিলেন। রি-প্রেজেন্টেটিভের উপস্থিতিতে রোগী সেবায় কোনো ধরনের বিলম্ব হয়েছে কিনা, তা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখলেই পরিষ্কার বোঝা যাবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. তাসনিম হোসাইন আরিফ জানান, গতকালের যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে, তার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত। আজ আমরা এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগপত্র পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।