নওগাঁর মান্দা উপজেলায় এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একটি পরিবারের প্রায় ১০ লক্ষাধিক টাকার সম্পদ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। বুধবার দিবাগত রাত ২টার দিকে উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ চক্রামপুর গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।
জানা যায়, রাত আনুমানিক ২টার সময় ওই পরিবারের বড় ছেলে সনজিৎ হাটে পাট নিয়ে যাওয়ার জন্য ভ্যান লোড করছিলেন। হঠাৎ তিনি বাড়িতে আগুন জ্বলতে দেখেন। সাথে সাথেই তিনি চিৎকার করে বাড়ির লোকজনকে জাগিয়ে তোলেন এবং তাদের নিরাপদে ঘর থেকে বের হতে সাহায্য করেন। কিন্তু ততক্ষণে আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, ঘরের আসবাবপত্র, খাদ্যশস্য, মূল্যবান কাগজপত্র, এমনকি বাড়ির পোষা গরু ও মুরগিসহ সবকিছুই পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
খবর পেয়ে স্থানীয়রা আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন এবং ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। তবে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই পুরো বাড়িটি পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
এই আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি এখন খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে।
কার্তিক চন্দ্র দাস কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, রাতে সবাই যখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, তখন হঠাৎ করেই তাদের বসতঘরে আগুন লাগে। আগুনের লেলিহান শিখা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় ঘরের ভেতর থাকা কোনো জিনিসপত্রই বের করা সম্ভব হয়নি। সারা জীবনের সঞ্চয় চোখের সামনে পুড়ে ছাই হয়ে গেল। কীভাবে আবার নতুন করে সবকিছু শুরু করব, তা জানি না।
কার্তিকের দুই ছেলের স্ত্রী, মিতু রানী ও তুলি রানী জানান, সামনে আমাদের দুর্গাপূজা। এই আনন্দঘন সময়ে আমাদের সব শেষ হয়ে গেছে। আমরা কোনমতে বেঁচে ফিরেছি। ছেলে-মেয়ের বই-খাতা সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এখন আমরা কোথায় দাঁড়াবো? আমাদের সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে।
বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মোঃ আব্দুস সালাম জানান, আমি বিষয়টি জানি এবং সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। আগুনে সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। প্রশাসনের সহযোগিতায় আমি তাদের সহায়তার চেষ্টা করছি। ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।মান্দা উপজেলার ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন লিডার শফিউর রহমান জানান, দিবাগত রাত ৩টার সময় খবর পাওয়া গেলে আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই আগুন নিভে যায়।