বাংলাদেশের সাংবাদিক সমাজের বহু পুরনো এক নির্মম বাস্তবতা। আর সেই নিষ্ঠুর বাস্তবতারই বলি হলেন সাহসী সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন।
দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ-এর গাজীপুর প্রতিনিধি তুহিন শুধু একজন সংবাদকর্মী ছিলেন না—তিনি ছিলেন সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে এক নির্ভীক যোদ্ধা। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কলম ধরেছিলেন সমাজের অসংগতি চক্রের বিরুদ্ধে।
গাজীপুরে সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন হত্যার ঘটনায় জড়িত সকল অপরাধীকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশন। সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এক বিবৃতিতে বলেন, একজন পেশাদার সাংবাদিককে নৃশংসভাবে হত্যা করা কেবল ব্যক্তি আক্রমণ নয়, এটি সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা ও জনস্বার্থের উপর একটি ভয়াবহ আঘাত। এই ঘটনায় এখনো হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার না করাটা রাষ্ট্রের দায়িত্বহীনতারই পরিচয় বহন করে।
নেতৃবৃন্দ স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার না করা হয়, তাহলে সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশন কঠোর কর্মসূচি ও দেশব্যাপী আন্দোলনের ডাক দিতে বাধ্য হবে।
তারা আরও বলেন, একজন সাংবাদিকের নিরাপত্তা হুমকির মুখে থাকলে, তা গোটা সংবাদ মাধ্যমকে আতঙ্কগ্রস্ত করে তোলে এবং সত্য প্রকাশের পথ রুদ্ধ হয়ে যায়। সাংবাদিক সমাজ তা কখনোই মেনে নেবে না।
সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশন এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার দাবি করছে এবং প্রয়োজনে সারাদেশের সাংবাদিক সমাজকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানাচ্ছে।
গত ৭ আগস্ট, গাজীপুর মহানগরের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় তুহিনকে প্রকাশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে একদল অস্ত্রধারী দুর্বৃত্ত। জানা যায়, তিনি ছিনতাইয়ের একটি ঘটনা মুঠোফোনে ভিডিও করছিলেন। সেই দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করাই ছিল তাঁর “অপরাধ”। সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, ঘটনার সময় তুহিন ওই সন্ত্রাসীদের ভিডিও করছিলেন, যা তারা সহ্য করতে পারেনি।
পুলিশ বলছে, সিসিটিভির ফুটেজে ধরা পড়া হামলাকারীরা চিহ্নিত ছিনতাইকারী দলের সদস্য এবং এরই মধ্যে পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। কিন্তু আমরা চাই, যেন এই তদন্ত প্রভাবমুক্ত ও স্বচ্ছভাবে হয়, এবং প্রকৃত খুনিরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পায়।
তুহিন ছিলেন তৃণমূল সাংবাদিকতার উজ্জ্বল মুখ। সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্ট, স্থানীয় দুর্নীতি, রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার—সব কিছুই সাহসের সঙ্গে তুলে এনেছেন সংবাদে। তিনি জানতেন—এই সত্যগুলো বলার জন্য তাকে মূল্য দিতে হতে পারে। তবু থেমে যাননি। মাথা নত করেননি।
তাঁর মৃত্যুতে আমরা শুধু একজন সাংবাদিককে হারাইনি, হারিয়েছি একটি সাহসী কণ্ঠ, একটি প্রেরণা। এখন সময় প্রতিবাদ জানানোর—এই হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করার।
সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশনের দাবি:
এক. সাংবাদিক তুহিন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সকল অপরাধীর অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
দুই. সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর আইন ও রাষ্ট্রীয় নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে।
তিন. সাংবাদিক নির্যাতনের সকল ঘটনার বিচার করতে হবে এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
চার. গাজীপুরের ছিনতাই-চক্রের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করতে হবে।