নওগাঁর মান্দায় বিলবয়রা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত শুরু করেছে উপজেলা শিক্ষা অফিস ।অভিযোগ তদন্তে দুই সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার ২২ জুলাই সকাল ১০ টায় তদন্ত কমিটি স্কুলে উপস্থিত হয়ে অভিযোগকারী, অভিযুক্ত শিক্ষক এবং অভিভাবকদের নিয়ে তদন্ত শুরু করেন।
স্থানীয় এলাকাবাসী এবং অভিভাবকদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর আলম দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রছাত্রীদের প্রতি অসৌজন্যমূলক আচরণ করে আসছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায় , সহকারী শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম ছাত্রীদের প্রতি অসত্য উদ্দেশ্যে গায়ে হাত তোলেন এবং তার কাছে প্রাইভেট না পড়লে ছাত্রছাত্রীদের ভয়ভীতি দেখান ও মারধর করেন। এসব বিষয় নিয়ে আগে থেকেই বিদ্যালয় ও এলাকাজুড়ে অসন্তোষ বিরাজ করছিল।
গত ১৭ জুলাই (বুধবার) ৩য় শ্রেণির এক ছাত্রীকে তিনি শ্রেণিকক্ষে বেদম মারধর করেন। এতে ছাত্রীটি রক্তাক্ত অবস্থায় আহত হয়। ঘটনার পরপরই ছাত্রীর অভিভাবক ও স্থানীয় লোকজন আহত শিশুটিকে উপজেলা শিক্ষা অফিসে নিয়ে যান এবং অভিযোগ জানান।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. শামীম হোসেন জানান, “এই শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে এমন আচরণ করে আসছেন। আমরা এলাকাবাসী তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
স্থানীয় সাইদুর রহমান জানান, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের উপর এভাবে নির্যাতন করলে, শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসতে ভয় পাবে। এরকম চলতে থাকলে স্কুলের পড়াশোনা পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাবে। স্কুলে লেখাপড়া পরিবেশ ঠিক রাখার দাবি জানান।
শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও এলাকাবাসীর দাবি, এ ধরনের ঘটনা শিশুদের মানসিক বিকাশে মারাত্মক প্রভাব ফেলে। তাঁরা দ্রুত তদন্ত করে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল বাশার শামসুজ্জামান বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে দুই সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম ও শফিকুল ইসলাম কে তদন্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা এই স্কুলে গিয়ে অভিযোগ তদন্ত করেছেন।।রিপোর্ট জমা দিলেই প্রয়োজনে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি আরো বলেন, এর আগেও তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।