1. admin@banglarrang.com : admin :
  • রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের পে স্কেলে অন্তর্ভুক্তিতে পৃথক প্রজ্ঞাপন লাগবে না পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের নতুন নাম ‘স্পেশাল রেসপন্স ইউনিট’ প্যারোলে মুক্ত হয়ে বড় ভাইয়ের জানাজায় অংশ নেন হুমায়ুন কোবির পাটোয়ারী এশিয়া কাপ ও এশিয়ান গেমসের জন্য বাংলাদেশ নারী দল ঘোষণা ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) ২৬ আগস্ট অমীমাংসিত মেলিসা হত্যাকাণ্ডের ৪০ বছর পর ফোন করে নিজের পরিচয় দিলেন খুনি ৭২ লাখের সংসদীয় লুকে কোথায় কত খরচ করলেন কঙ্গনা ১০০ টাকায় গরুর মাংস-ভাত বিক্রি করা ‘ভাইরাল মিজান’ গ্রেপ্তার এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ, পাসের হার ৬২ শতাংশ ‎ ৫০ পদে নিয়োগ দিচ্ছে প্রাণ গ্রুপ, রয়েছে প্রভিডেন্ট ফান্ডসহ আকর্ষণীয় বেতন

দিবর দিঘির কল্পকথা

এম শামীম হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার / ৭২৪
শনিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৫

প্রাচীন নিদর্শনসমৃদ্ধ ও নানা ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থানের উত্তরের জেলা নওগাঁ। এ জেলার উত্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, দক্ষিণে নাটোর ও রূজশাহী জেলা, পূর্বে জয়পুরহাট ও বগুড়া জেলা এবং পশ্চিমে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা। আর আত্রাই, ছোট যমুনা, নাগর, তুলসীগঙ্গা, পুনর্ভবা এ জেলার প্রধান নদী। বরেন্দ্রের -ঢালু পথ ধরে চলতে চলতে দেখা মিলবে মৌর্য, গুপ্ত ও পাল থেকে শুরু করে মোগল আমলের প্রত্নস্থানগুলো।

তাদের মধ্যে বরেন্দ্র অঞ্চলের একটি ঐতিহাসিক দিবর দিঘি। যা জেলার পত্নীতলায় অবস্থিত। স্যার আলেকজান্ডার কানিংহাম ও স্যার বুকানন হ্যামিলটনের পরিদর্শন করা এ ঐতিহাসিক দিবর দিঘিটি এক রাতে খনন করা হয়েছিল বলে কথিত আছে।

তবে প্রাচীন স্থাপত্য পুরাকীর্তির অনুপম নিদর্শন এবং হাজার বছরের বাংলা ও বাঙালির শৌর্যবীর্যের প্রতীক হিসেবে আজও দন্ডায়মান এ দিঘির বিজয় স্তম্ভটি। দিঘিটিকে ঘিরে লোকমুখে অনেক গল্পকাহিনি বা কাল্পনিক গল্পকথা প্রচলিত রয়েছে।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের ইতিহাস ও জনশ্রুতি আছে, জনৈক বিছু কর্মী নামক এক বীর জিনের বাদশাহের হুকুমে এক রাতে বিশাল আকৃতির এ দিখি খনন করেন। দিবর নামে পরিচিত এই বৃহৎ জলাশয় ও জলাশয়ের মাঝখানে অবস্থিত অন্তটি একাদশ শতাব্দীর কৈবর্ত রাজা দিব্যক তার ভ্রাতা রুদকের ছেলে প্রখ্যাত নৃপতি ভীমের কীর্তি হিসেবে পরিচিত।

পাল রাজা দ্বিতীয় মহিপালের (১০৭০-১০৭১ খ্রি.) অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে বরেন্দ্রভূমির অধিকাংশ পদচ্যুত সেনাপতি বরেন্দ্রভূমির ধীবর বংশোদ্ভূত কৃর্তী সন্তান দিব্যকের নেতৃত্বে পাল শাসকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন এবং পরবর্তীতে দ্বিতীয় মহিপালকে হত্যা করেন। পরে সর্বসম্মতিক্রমে দিব্যককে বরেন্দ্রভূমির অধিপতি নির্বাচন করা হয়। কিছুদিন পর দিব্যক মারা গেলে প্রথমে রুদকের ছেলে ভীম সিংহাসন আরোহণ করেন।

তিনিই একমাত্র কৈবর্ত বংশীয় রাজা। যিনি প্রায় ২৮ থেকে ৩০ বছর বরেন্দ্রভূমি শাসন করেন। পরে দ্বিতীয় মহিপালের ভ্রাতা রামপাল ভীমকে পরাজিত পরাজিত। ও নিহত করে রাজ্য পুনরুদ্ধার করেন। তবে কোন কৃর্তী কৈবর্ত রাজা বিজয় স্তম্ভটি নির্মাণ করেছিলেন তা আজ অবধি সঠিকভাবে জানা যায়নি। তবে স্যার আলেকজান্ডার কনিংহামের মতে, শৌর্যদের পরে এ ধরনের কোনো পাথরের কাজ বাংলার অঞ্চলে আর হয়নি।

সেই ভিত্তিতে প্রত্নতত্ত্ববিদ আবুল কালাম জাকারিয়ার মতে, বিজয় স্তম্ভটি খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতকে নির্মিত হওয়া সম্ভব। প্রায় ৩০ ফুট লম্বা একটি অখণ্ড পাথর কেটে তৈরি এই স্তম্ভের ৯টি কোণ রয়েছে। এর এক কোণ থেকে অপর কোণের দূরত্ব ১২ ইঞ্চি। স্কন্ডের উপরিভাগে পরপর তিনটি বড় বলয়াকারে স্মিত রেখা রয়েছে। যা সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেছে। এর শীর্ষ দেশ নান্দনিক কারুকার্য খচিত মুকুট আকারে নির্মিত। পানির উপরিভাগে অস্ত্রের উচ্চতা ৯০ ফুট, পানির ভিতর ১০

ফুট এবং সারি মাটির নিচে ১০ ফুট। স্যার বুকানন হ্যামিলটনের মতে, মুন্ডের দৈর্ঘ্যা ৩০.৩৪ ফুট। অপরদিকে স্যার আলেকজান্ডার কানিংহামের মতে দৈখা ৩০ ফুট। স্যার আলেকজান্ডার কানিংহাম ১৮৭৯ সালে যখন এই দিঘি পরিদর্শনে আসেন তখন এর গভীরতা ছিল ১২ ফুট এবং এর প্রত্যেক বাহুর দৈর্ঘ্যা ছিল ১ হাজার ২০০ ফুট।

বর্তমানে দিবর দিঘির জলাশয়ের পরিমাণ প্রায় ২০ একর। বর্তমানে ঐতিহাসিক এই দিবর দিঘিতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিদিন বনভোজন ও ভ্রমণের উদ্দেশে শত শত মানুষের সমাগম ঘটে। প্রকৃতির অপরূপ নয়নাভিরাম এই দিঘির চতুর্দিকে রাজশাহী সামাজিক বনবিভাগ কর্তৃক বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে রয়েছে বন। যা দিঘির সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি ছায়া সুশীতল মনোরম পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। নওগাঁর বিশিষ্ট কবি ও গবেষক আতাউল হক সিদ্দিকী বলেন, দিবর দিঘির দিব্যক জয়ন্তন্ত বাঙালির শৌর্যবীর্যের

প্রতীক। ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বিবেচনায় দিঘিটিকে আরও পরিকল্পিতভাবে সংরক্ষণ করা উচিত। এতে জেলার ভাবমূর্তি আরও সুন্দর হবে। নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুল আউয়াল বলেন, সরকারি মালিকানায় ঐতিহাসিক এই দিঘিটির দেখভাল করে থাকে জেলা প্রশাসন। দিঘিটি ঘিরে পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে বেশ কিছু উন্নয়ন কাজ করা হয়েছে।

দিঘির পশ্চিম ও পূর্ব অংশে পাড় থেকে দূরে সামাজিক বনায়ন করা হয়েছে।। ২। দিঘির পশ্চিম ও পূর্ব পাড়ে রয়েছে শান বাঁধানো ঘাট। পাড়ে ইটে বিছিয়ে হাঁটার পথ করা হয়েছে। দিঘির স্বচ্ছ জলরাশির সৌন্দর্য উপভোগ এবং কাছ থেকে ভন্তটি দেখার সুযোগ করে দিতে আছে ইঞ্জিনচালিত নৌকার ব্যবস্থা। আর এই ঐতিহাসিক দিঘিটি দেখতে প্রতিদিন শত শত দর্শনার্থী ভিড় করে থাকেন। আরও নতুন নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে এই ঐতিহাসিক দিবর দিঘিটিকে ঘিরে।

প্রায় ১৫০ বছরের পুরোনো। রাজবাড়ির ‘রাজদিঘি’র বর্তমা ঐতিহ্যবাহী দিমিটি নিয়ে গাজীপ করলেও বর্তমানে এটি অফ হারাতে বসেছে। সঠিক তদারকিন হতে পারে গাজীপুত্রের অন্যতম প্রশাসন বলছে, নিপির চারপাশ দর্শনীয় স্থান তৈরিও পরিকল ভাওয়াল রাজদিমি রাজা কালীন আমলে খনন কাজ সমাপ্ত করা পশ্চিম পার্শ্বে অবস্থিত বিশাল সমাপন করতেন রাজবংশীয় সে দিঘির উত্তর পার্শ্বে নির্দিষ্ট স্থানে সুন্দর ঘাট ও গোসলখানা।

তে হলেও ঘাট দুটো কালের সাক্ষী দাঁড়িয়ে আছে। গাজীপুর জেলার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ভাওয়াল মূল ফটক ঘরে প্রবেশ করছে একটি ভবন, যা বর্তমানে গাজী কার্যালয়। এ রাজবাড়ির পশ্চিম একটি দিঘি, যাকে ‘রাজদিমি’ বা একর জমির ওপর এই নিধিটি রাজবাড়ির অংশ এবং এটি ঐতিহ্যবাহী স্থান।

দিঘিটি সরেন সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ময়লা-আবর্জনা দিঘিটির কিনা চারপাশে নানা ধরনের আপ কচুরিপানায়ও ঢেকে যায়।
#এম_এস


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
https://slotbet.online/