1. admin@banglarrang.com : admin :
  • শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০৭ পূর্বাহ্ন

মেসির পর এখন কে

বাংলার রঙ স্পোর্টস ডেস্ক / ২৭
শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬
গোলের পর মেসির উদযাপন

মেসি নেই—আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের সামনে এখন এটাই বাস্তবতা। সন্দেহ নেই, সামনে সেই বাস্তবতা বড় কঠিন হবে। মেসি দলে থাকলে আর্জেন্টিনা এক দল, আর না থাকলে তারা আরেক দল। দীর্ঘ দুই দশক ধরে যিনি ছিলেন দলের সবচেয়ে বড় ভরসা, ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার শেষ আশ্রয়, সেই মেসি আর্জেন্টিনা দলে না থাকলে তাদের নিয়ে প্রতিপক্ষের দৃষ্টিভঙ্গিই বদলে যায়! সেই লিওনেল মেসিকে ছাড়া আর্জেন্টিনার পথ চলা যে সহজ হবে না, তা মেসির বিদায়ের রাতে অকপটেই স্বীকার করেছেন কোচ লিওনেল স্কালোনি।

লিওনেল মেসির বিদায়ী ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলার সময় বড় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন স্কালোনি। ‘এখন আমাদের তাকে ছাড়া চলতে হবে। নিঃসন্দেহে কঠিন হবে। গত কয়েক বছরে আমরা যা পেয়েছি, তা স্বাভাবিক কোনো ব্যাপার নয়। সামনে কঠিন সময় আসতে পারে’—এটুকু বলার পরই কণ্ঠ ভারী হয়ে আসে কোচের। আর্জেন্টিনার জার্সির গুরুত্ব এবং সেটার মর্যাদা রক্ষা করতে পারার সঙ্গে মেসিকে মিলিয়ে স্কালোনি বললেন, ‘অন্য যে কারও চেয়ে আলাদাভাবে এই জার্সি রক্ষা করার জন্য তার প্রতি আমাদের চিরন্তন কৃতজ্ঞতা। আমার জন্য এটি ছিল এক স্বপ্নের মতো।’

স্কালোনি আরও বলে গেলেন, ‘আমার ভেতর যতটুকু শক্তি অবশিষ্ট ছিল, তা দিয়ে সবার সামনেই তাকে কথাটা বলেছি। যেকোনো আর্জেন্টাইনও ঠিক একই কথা বলত। জীবনের কোনো পর্যায়েই ভাবিনি যে আমি তার কোচ হতে পারব, হতে পারব ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড়ের কোচ। আমার ২০ বছরের ক্যারিয়ারজুড়ে সে-ই সেরা ছিল এবং এখনো সে-ই সেরা। আর নিজের পাশে তার (মেসির) থাকার অনুভূতিটা তুলনাহীন। এটা কেমন অনুভূতি, অন্যদের বলে বোঝানো কঠিন।’ মেসি শুধু একজন কোচের নির্ভরতার নামই নয়, ফুটবল উৎকর্ষের চূড়ান্ত মানদণ্ডের আরেক নামও। লাতিনের চিরন্তন স্কিল তো তাঁর পায়ে ছিলই, ছিল ইউরোপিয়ান ফুটবলের পরিশ্রমী মানসিকতাও। সব মিলিয়েই তাঁর উপস্থিতি আর্জেন্টিনা দলকে অন্য রকম একটা শক্তি জোগাত। আর এখানেই নিয়ত মেসিকে মিস করবেন স্কালোনি, ‘আমরা যে দলই গড়ি না কেন, মেসির সেই প্রবাহ-বলয় আর থাকবে না। জীবনে তার মতো প্রভাবিত করার শক্তি আমি আর কারও মধ্যে দেখিনি।’

১০ নম্বর জার্সি পরতেন মেসি। আকাশি-সাদার এই জার্সির মর্যাদা কী, সেটি বুঝতে হবে ফুটবলের স্বর্গীয় প্রতিভা দিয়েগো ম্যারাডোনার দিকে তাকিয়ে। তিনি একা খেললেও একটা দলকে মোকাবিলার মতো মনে হতো প্রতিপক্ষের। ম্যারাডোনারও আগে এই জার্সি পরতেন মারিও ক্যাম্পেস। যিনি ছিলেন ১৯৭৮ সালে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক। এই ১০ নম্বর জার্সিই একই সূত্রে গেঁথেছে মারিও কেম্পেস, দিয়েগা ম্যারাডোনা, লিওনেল মেসি—এই তিন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তিকে। ওই ১০ নম্বর জার্সি গায়ে চড়িয়েই তাঁরা নিজেদের সেরা সময়ে আর্জেন্টিনাকে করেছেন বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন। কাজেই তাঁদের মতো ক্ষণজন্মা ফুটবলার পেতে বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হবে আর্জেন্টিনাকে। এই বাস্তবতার মধ্যেও আর্জেন্টিনা দলে কীভাবে পূরণ করা হবে মেসির অভাব, সেটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ কোচ স্কালোনি ও তাঁর শিষ্যদের। মেসি-উত্তর আর্জেন্টিনাকে নিয়ে কল্পনার একটা ছবি এরই মধ্যে এঁকেছেন স্কালোনি। বললেন, ‘আমরা নতুন কিছু খুঁজব, নতুন কিছু উপায় বের করব। তাকে উপভোগ করতে পারাটা ছিল অবিশ্বাস্য। এখন তাকে ছাড়া এগিয়ে যেতে হবে এবং আমরা এগিয়ে যাব। তার শূন্যতা পূরণের একমাত্র উপায় হলো একটি দুর্দান্ত দল গড়া, যেখানে সবাই নিজের জায়গা থেকে অবদান রাখবে।’

কারণ, স্কালোনি ভালো করেই জানেন, হুবহু মেসির মতো একজন ফুটবলারকে পাওয়া সম্ভব নয়। যে খেলোয়াড় নিজের প্রতিভায় একাই ম্যাচের গতিপথ বদলে দিতে পারেন, তাঁর বিকল্প একজনের মধ্যে খোঁজা তাই বাস্তবসম্মতও নয়। আর্জেন্টিনার নতুন যুগের চ্যালেঞ্জ হবে অন্য জায়গায়—একজন মেসির বদলে পুরো দলকে আরও শক্তিশালী করে তোলা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
https://slotbet.online/