শিশুরা স্বভাবতই অনুকরণপ্রিয়। অজানাকে জানার, অচেনাকে চেনার কৌতূহল নিয়ে তারা বড় হতে থাকে। আমার তিন বছরের নাতনি টুসি মাত্র কথা বলতে শিখেছে। হরেক রকম খেলনা কিনে দিলেও সে যখন দেখে তার মা মোবাইল ফোনে কথা বলছেন, হাসছেন, কখনো দেখে ওটা নিয়ে ভিডিও গেম খেলছেন—স্বভাবতই ওর ওই মোবাইলের প্রতি কৌতূহল দেখা দেয়।
অনেক সময় দেখা যায়, চাকরিজীবী মায়েরা শিশুদের ব্যস্ত রাখতে, নিজের কাজের সুবিধার্থে শিশুর হাতে মোবাইল ধরিয়ে দেন। এমনকি শিশু খেতে না চাইলেও মোবাইল ফোনে কার্টুন বা অন্য ছবি দেখিয়ে অন্যমনস্ক করে খাওয়ান। এতে শিশুর মোবাইল আসক্তি বেড়ে যায়, যা শিশুদের জন্য বিপদ ডেকে আনে। তাদের শৈশব ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, বুদ্ধির বিকাশ রুদ্ধ হচ্ছে এই মোবাইল আসক্তির কারণে।
মোবাইল আসক্তির কারণে শিশুরা নানা রোগের শিকার হচ্ছে। চক্ষু ও মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞদের অভিমত, মোবাইল ফোন, ট্যাব, ল্যাপটপ ও কম্পিউটারের মতো ইলেকট্রনিক ডিভাইসের অতিরিক্ত ব্যবহারে শিশুদের দৃষ্টিশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বাধা পাচ্ছে মানসিক বিকাশ। সেই সঙ্গে ফাস্ট ফুড, ভেজালযুক্ত খাবারও শিশুদের শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। ফলে তারা মননে না বেড়ে শারীরিকভাবে স্থূল হয়ে উঠছে।
ইউটিউবে সহিংস কার্টুন দেখে দেখে শিশুরা বন্ধুদের প্রতিও সহিংস আচরণ করতে শেখে। তবে শিশুর মানসিক, শারীরিক বিকাশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে মোবাইল আসক্তি। এ ক্ষেত্রে মা-বাবাকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। সন্তানকে কতটা সময় এ ধরনের ডিভাইস ব্যবহার করতে দেবেন, তা ঠিক করে দেওয়া খুব জরুরি। সন্তান বায়না করলেও এর বিকল্প কোনো ব্যবস্থা খুঁজে বের করতে হবে তাঁদেরই। শিশুদের সঙ্গে খেলাধুলা, বাইরে সময় কাটানো, গল্প করার অভ্যাস বাড়াতে হবে।
প্রযুক্তির অভাবনীয় উদ্ভাবনে বিশ্বে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছে—এ কথা অনস্বীকার্য। তবে এর ভালো-মন্দ দুটি দিকই আছে। বেছে নিতে হবে কোনটি আমাদের শিশুদের জন্য মঙ্গলজনক। ডিজিটাল ডিভাইসে আসক্তি শিশুদের যে ক্ষতি করছে, তা অপূরণীয়। এই আসক্তি থেকে শিশুদের স্বার্থেই তাদের দূরে রাখতে হবে।
লেখক, মেরীনা চৌধুরী, চাইল্ড এক্সপার্ট
সৌজন্য : কালের কণ্ঠ