1. admin@banglarrang.com : admin :
  • রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের পে স্কেলে অন্তর্ভুক্তিতে পৃথক প্রজ্ঞাপন লাগবে না পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের নতুন নাম ‘স্পেশাল রেসপন্স ইউনিট’ প্যারোলে মুক্ত হয়ে বড় ভাইয়ের জানাজায় অংশ নেন হুমায়ুন কোবির পাটোয়ারী এশিয়া কাপ ও এশিয়ান গেমসের জন্য বাংলাদেশ নারী দল ঘোষণা ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) ২৬ আগস্ট অমীমাংসিত মেলিসা হত্যাকাণ্ডের ৪০ বছর পর ফোন করে নিজের পরিচয় দিলেন খুনি ৭২ লাখের সংসদীয় লুকে কোথায় কত খরচ করলেন কঙ্গনা ১০০ টাকায় গরুর মাংস-ভাত বিক্রি করা ‘ভাইরাল মিজান’ গ্রেপ্তার এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ, পাসের হার ৬২ শতাংশ ‎ ৫০ পদে নিয়োগ দিচ্ছে প্রাণ গ্রুপ, রয়েছে প্রভিডেন্ট ফান্ডসহ আকর্ষণীয় বেতন

শিশুদের মোবাইল আসক্তির প্রভাব

বাংলার রঙ ডেস্ক / ২৮৯
সোমবার, ২৮ জুলাই, ২০২৫
প্রযুক্তি কেড়ে নিচ্ছে শিশুদের দুরন্ত শৈশব। মডেল : সাইবাহ, ছবি : সুমন ইসলাম আকাশ

শিশুরা স্বভাবতই অনুকরণপ্রিয়। অজানাকে জানার, অচেনাকে চেনার কৌতূহল নিয়ে তারা বড় হতে থাকে। আমার তিন বছরের নাতনি টুসি মাত্র কথা বলতে শিখেছে। হরেক রকম খেলনা কিনে দিলেও সে যখন দেখে তার মা মোবাইল ফোনে কথা বলছেন, হাসছেন, কখনো দেখে ওটা নিয়ে ভিডিও গেম খেলছেন—স্বভাবতই ওর ওই মোবাইলের প্রতি কৌতূহল দেখা দেয়।

জিনিসটি হাতে নিতে চায়; না দিলে কেঁদে বাড়ি মাথায় তোলে। এমনকি মা-বাবাকে মারতেও চায়।শিশুদের এ ধরনের আচরণের জন্য বহুলাংশে মা-বাবাই দায়ী। যেহেতু শিশুরা অনুকরণপ্রিয়, তাই ওদের সামনে এমন কিছু করা উচিত নয়, যা ওদের অনুকরণের আগ্রহ বাড়ায়।

অনেক সময় দেখা যায়, চাকরিজীবী মায়েরা শিশুদের ব্যস্ত রাখতে, নিজের কাজের সুবিধার্থে শিশুর হাতে মোবাইল ধরিয়ে দেন। এমনকি শিশু খেতে না চাইলেও মোবাইল ফোনে কার্টুন বা অন্য ছবি দেখিয়ে অন্যমনস্ক করে খাওয়ান। এতে শিশুর মোবাইল আসক্তি বেড়ে যায়, যা শিশুদের জন্য বিপদ ডেকে আনে। তাদের শৈশব ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, বুদ্ধির বিকাশ রুদ্ধ হচ্ছে এই মোবাইল আসক্তির কারণে।

তা ছাড়া বাংলাদেশে এখন খেলার মাঠের বড় অভাব। শিশুরা আগের মতো মাঠে খেলার সুযোগ পায় না। ঘরে বসে ভিডিও গেম খেলে। কার্টুন দেখা, গেমস খেলা, মুভি দেখার মতো বিনোদনমূলক কাজগুলো শিশুরা এখন মোবাইল ফোনে করছে। তাদের শরীরচর্চাও হচ্ছে না।
পাশাপাশি স্কুলে শিক্ষাদানের উত্সবের ঘাটতি, যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষকের সংকট, শ্রেণিকক্ষে ভিড় আর মান্ধাতা আমলের পাঠক্রম অনুসরণের কারণে এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষাব্যবস্থার এমন নাজুক পরিস্থিতি বাংলাদেশের শিশুদের অন্ধকারের দিকে নিয়ে যাবে। কারণ শিশুরা তার মেধার পূর্ণ সম্ভাবনাকে বিকাশ করতে সক্ষম হচ্ছে না। মোবাইলসহ অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইসের প্রতি আসক্তির ফলে শিশুরা লেখাপড়ায় বিমুখ হয়ে পড়ছে, অসামাজিক হয়ে পড়ছে, নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে তাদের ব্যক্তিত্বে। শিশুরা আত্মকেন্দ্রিক হয়ে পড়ছে। এর ফলে শিশুরা বিষণ্নতায় আক্রান্ত হচ্ছে।

মোবাইল আসক্তির কারণে শিশুরা নানা রোগের শিকার হচ্ছে। চক্ষু ও মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞদের অভিমত, মোবাইল ফোন, ট্যাব, ল্যাপটপ ও কম্পিউটারের মতো ইলেকট্রনিক ডিভাইসের অতিরিক্ত ব্যবহারে শিশুদের দৃষ্টিশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বাধা পাচ্ছে মানসিক বিকাশ। সেই সঙ্গে ফাস্ট ফুড, ভেজালযুক্ত খাবারও শিশুদের শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। ফলে তারা মননে না বেড়ে শারীরিকভাবে স্থূল হয়ে উঠছে।

ইউটিউবে সহিংস কার্টুন দেখে দেখে শিশুরা বন্ধুদের প্রতিও সহিংস আচরণ করতে শেখে। তবে শিশুর মানসিক, শারীরিক বিকাশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে মোবাইল আসক্তি। এ ক্ষেত্রে মা-বাবাকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। সন্তানকে কতটা সময় এ ধরনের ডিভাইস ব্যবহার করতে দেবেন, তা ঠিক করে দেওয়া খুব জরুরি। সন্তান বায়না করলেও এর বিকল্প কোনো ব্যবস্থা খুঁজে বের করতে হবে তাঁদেরই। শিশুদের সঙ্গে খেলাধুলা, বাইরে সময় কাটানো, গল্প করার অভ্যাস বাড়াতে হবে।

প্রযুক্তির অভাবনীয় উদ্ভাবনে বিশ্বে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছে—এ কথা অনস্বীকার্য। তবে এর ভালো-মন্দ দুটি দিকই আছে। বেছে নিতে হবে কোনটি আমাদের শিশুদের জন্য মঙ্গলজনক। ডিজিটাল ডিভাইসে আসক্তি শিশুদের যে ক্ষতি করছে, তা অপূরণীয়। এই আসক্তি থেকে শিশুদের স্বার্থেই তাদের দূরে রাখতে হবে।

 

লেখক, মেরীনা চৌধুরী, চাইল্ড এক্সপার্ট

সৌজন্য : কালের কণ্ঠ


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
https://slotbet.online/