নওগাঁর সাপাহার-পত্নীতলা সীমান্তবর্তী গুরুত্বপূর্ণ কুচিন্দা খাড়ি দখল করে অবৈধভাবে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। সাপাহার-আগ্রাদ্বিগুণ সড়কের কুচিন্দা ব্রিজের পূর্ব ও পশ্চিম পাশে খাড়ির সরকারি জমি দখল করে কনক্রিটের পিলার বসিয়ে ঢালাই কাজ চালানো হচ্ছে। এতে খাড়ির স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এভাবে দখল চলতে থাকলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে অন্তত ৭ থেকে ৮টি গ্রাম প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে।
শনিবার (৪ এপ্রিল) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, খাড়ির দুই পাশে সরকারি জায়গায় পিলার বসিয়ে ভবনের কাঠামো দাঁড় করানোর কাজ চলছে। স্থানীয়রা জানান, এই খাড়িটি শুধু সাপাহার ও পত্নীতলার বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের পথ নয়; বরং পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলও এই পথ দিয়েই প্রবাহিত হয়। ফলে খাড়ির পানি প্রবাহ সংকুচিত হলে পুরো এলাকার কৃষিজমি ও বসতবাড়ি বড় ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
স্থানীয় কৃষক মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন,
“এই খাড়ি আমাদের এলাকার প্রাণ। বর্ষায় ভারতের পানি আর মাঠের পানি এই পথ দিয়েই নেমে যায়। এখন যদি খাড়ি বন্ধ করে ঘর তোলা হয়, তবে আবাদি জমি ডুববে, বসতবাড়িতেও পানি উঠবে। আমরা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চাই।”
অপর বাসিন্দা মোঃ হাবিবুর রহমান বলেন,
“সরকারি জায়গা প্রকাশ্যে দখল করে কনক্রিট ঢালাই দেওয়া হচ্ছে। প্রভাবশালীরা খালের ওপর স্থাপনা দাঁড় করাচ্ছে, অথচ দেখার কেউ নেই। এখনই ব্যবস্থা না নিলে সামনের বর্ষায় ৭-৮টি গ্রাম পানির নিচে তলিয়ে যাবে।”
এদিকে, ঘটনাস্থলে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েন সংবাদকর্মীরা। সাপাহার প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক কালের কণ্ঠ প্রতিনিধি তছলিম উদ্দীনের সঙ্গে দখলকারী পক্ষ অশোভন আচরণ করে এবং তথ্য সংগ্রহে বাধা দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সাপাহার উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব হাসান আলী বলেন,
“একজন সাংবাদিকের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাই “
বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে সাপাহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রোমানা রিয়াজ বলেন,
“সরকারি খাড়ি বা খাল দখল করে স্থাপনা নির্মাণের কোনো সুযোগ নেই। আমরা বিষয়টি জেনেছি। দ্রুত সরেজমিনে তদন্ত করে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে নির্মাণ কাজ বন্ধ করে খাড়ির সীমানা নির্ধারণ এবং সরকারি জমি উদ্ধার করা হোক, যাতে কৃষি ও জনবসতি বড় ধরনের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পায়।
#এম_এস